অনেক দিন ধরে ক্রিস গেইলের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তা অবশ্য হওয়ারই কথা! বুড়িয়ে যাওয়া ব্যাটিং দানবের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরিটি যে ছিল ২০১৬ সালে! সেই গেইলই সেন্ট লুসিয়ায় দেখালেন বয়সটা তার কাছে এখনও সংখ্যা মাত্র! ৪১ বয়সী তারকার বিধ্বংসী এক ইনিংসে রীতিমত উড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। গেইলের ব্যাটে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অজিদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর ফলে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ৫ ম্যাচের সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
এই বছরে ডাক পাওয়ার পর থেকে বড্ড ম্লান ছিলেন গেইল। ৯ ইনিংসে সংগ্রহটাও ছিল নামের সঙ্গে বেমানান-১০২। কিন্তু সেন্ট লুসিয়ায় সেই খরা কাটাতে এমনই এক ইনিংস খেললেন। তাতে ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টির প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়েছেন অনন্য কীর্তি। ১৪ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন ৩৮ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলে।
১৪২ রানের লক্ষ্য তারা করতে নেমে শুরুটা বিবর্ণ ছিল ক্যারিবীয়দের। প্রথম ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচারকে হ্যাজেলউড ফেরালে নামেন গেইল। তার পরেই ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন তিনি। গেইল সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিলেন স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বেলায়। তার নবম ওভারে ছক্কা মেরেই ১৪ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। তার ১১তম ওভারে টানা তিন ছক্কা মেরেই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। একই ধারা বজায় রাখেন ১২তম ওভারেও। রাইলি মেরিডিথের ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে আউটও হয়েছেন একই ওভারে।
গেইলের এই ছক্কা বৃষ্টিতে জয়ের মঞ্চও গড়া হয়ে যায় তাতে। ছক্কা বৃষ্টির ম্যাচে ৪টি চারের সঙ্গে ৭টি ছয় হাঁকান তিনি!
গেইল দলীয় ১০৯ রানে ফিরলেও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুরান ২৭ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে জয়ের বন্দরে পৌঁছান দলকে। গেইল ঝড়ের পর ৪ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় নিশ্চিত করে ১৪.৫ ওভারে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া তিনটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। দুজন ছিটকে যান ইনজুরিতে। শুরুটা ভালো করলেও স্কোরবোর্ডের সেই ছন্দ তারা ধরে রাখতে পারেনি। ৫৮ রান তুলতেই লেগে যায় ৯ ওভার!
বিশেষ করে ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই ভোগায় অস্ট্রেলিয়াকে। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ৩১ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ ও ময়জেস হ্যানরিকস ২৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৪১ রান।
হেইডেন ওয়ালশ ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। একটি করে নিয়েছেন ওবেড ম্যাকয়, ডোয়াইন ব্রাভো ও ফাবিয়ান অ্যালেন।