এটা কেবল জয়ই নয়, অনেক কিছুর জবাবও

ভাবা যায়? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়, তাও আবার কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে। যে ফরম্যাটে সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা আফগানিস্তানেরও পেছনে! তারাই  কিনা অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে সিরিজ নিজেদের করে নিলো। তাও আবার ২ ম্যাচ হাতে রেখেই। শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অজিদের ১০ রানে হারানোটা কেবল জয়ই নয়, অনেক কিছুর জবাবও।
 
অস্ট্রেলিয়ার জিততে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২২ রান। কিন্তু প্রথম দুই ওভারে বাজে বোলিং করা মেহেদীর হাতেই বল তুলে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম বলে ছক্কা হজম করে অস্বস্তিতে ফেলে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার বুদ্ধিদ্বীপ্ত বোলিংয়েই ১০ রানের জয়ে হাসিমুখে ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। 

জৈব সুরক্ষা বলয়ের দোহাই দিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে এতদিন হাতই না মেলায়নি অস্ট্রেলিয়া। আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের সামনে এসে হাত তালির মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানালেও আজ ঘটেছে উল্টো! ম্যাচ জেতার পর মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমের সামনে গিয়ে অজিদের হাততালি দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ! ক্রিকেটীয় ভদ্রতার পেছনে হয়তো গত ১৫ বছর ধরে চলা বঞ্চনার জবাবও হতে পারে এটি!

কেননা ২০০৬ সালে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশের পথ চলা শুরু হলেও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে এই ফরম্যাটে প্রথম অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছে। কারণটাও জানা, বরাবরই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে অনীহা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। বেশ কয়েকবার ভবিষ্যত ক্রিকেট সূচিতে সফর থাকলেও নানা অজুহাতে সিরিজ বাতিল করার নজির আছে অস্ট্রেলিয়ানদের। সবমিলিয়ে তাই এই সিরিজটি এক প্রকার জবাবও ছিল! শুক্রবার সেই কাজটিই করেছে মোস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহরা।

বাংলাদেশর এমন জয়ে অবশ্য সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর। টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ দলকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের বহু সমালোচনা যে সহ্য করতে হয়েছে প্রোটিয়া কোচকে। এই সিরিজের আগেতো ক্ষেপেই গিয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে বাজে দল বলায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রাসেল ডমিঙ্গো বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে প্রতিনিয়ত নেতিবাচক খবর পড়া প্রচণ্ড হতাশার। বুঝি না কেন মানুষ বলে আমরা ভালো টি-টোয়েন্টি দল নই। আমার মনে হয়, আমাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। আমি নিশ্চিত উন্নতির জায়গা আছে। আমার মনে হয়, খুব ভালো টি-টোয়েন্টি দল হওয়ার রসদ আমাদের আছে।’ হয়তো অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ডমিঙ্গোর হয়েই তার শিষ্যরা জবাবটা দিয়ে দিলেন।

তবে পরিসংখ্যান কিন্তু বাংলাদেশকে বাজে দল হিসেবেই স্বীকৃতি দিচ্ছে! চলতি সিরিজ ছাড়া বড় কোন দলের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য নেই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া বড় কোন দলের মধ্যে এখন অব্দি সিরিজ জয়ের রেকর্ড নেই লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল। ওটাই বড় কোন দলের বিপক্ষে কুড়ি ওভারে বাংলাদেশের সিরিজ জয়। এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ও আয়ারল্যান্ডর বিপক্ষে একবার সাকিবরা সিরিজ জিতেছিল। এর বাইরে এক ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় আছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

আগামী অক্টোবরে ওমান ও আরব আমিরাতে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপের আগে অস্টেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিতভাবে উজ্জ্বীবিত করবে বাংলাদেশ দলকে।