মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটিং ভালো হবে। যদিও তার কথার উল্টোটা ঘটলো চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং হলো আজ (শনিবার)। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৪ রান করেছে বাংলাদেশ।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তবে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা থেকেই গিয়েছিল। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও জানিয়েছিলেন, ব্যাটিং ভালো করতে হবে। মাহমুদউল্লাহর বিশ্বাস ছিল, শেষ দুই ম্যাচে জ্বলে উঠবেন ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু আজ চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে চলতি সিরিজের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স হলো ব্যাটসম্যানদের।
আবারও ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকার (৮)। রানের খাতা খুলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ ও নুরুল হাসান সোহান। ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান (১৫)। সর্বোচ্চ ২৮ রান এসেছে নাঈম শেখের ব্যাট থেকে। আফিফ হোসেনের ১৭ বলে ২০ ও মেহেদী হাসানের ১৬ বলে ২৩ রানের ইনিংস দুটিতে ১০০ ছাড়ায় বাংলাদেশের স্কোর।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার মিচেল সুয়েপসন। এই স্পিনার ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। তার সমান ৩ উইকেট পেতে অ্যান্ড্রু টাই ৩ ওভারে খরচ করেছেন ১৮ রান। জশ হ্যাজেলউড ৪ ওভারে ২৪ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।
সৌম্য ব্যর্থতার-গাড়ি চলছেই
জিম্বাবুয়েতে যে সৌম্য সরকার বোলারদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন, সেই তিনিই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন! এক-দুটি নয়, টানা চার টি-টোয়েন্টিতে হতাশ করলেন এই ওপেনার। তার ব্যর্থতার-গাড়ি চললেও উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙতেই হয়তো সুযোগ মিলছে। কিন্তু আজ (শনিবার) চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতেও সেই একই দৃশ্য ফুটে উঠলো সৌম্যর ব্যাটে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ১০ বলে ৮ রান করে আউট হয়ে গেছেন সৌম্য। আগের ওভারে অ্যাশটন টার্নারকে ছক্কা মারায় মনে হয়েছিল, আজ বুঝি সৌম্যকে পাওয়া যাবে। কিন্তু জশ হ্যাজেলউডের বলে ইতি ঘটলো তার ইনিংসের। বল ব্যাটের কানায় লেগে উঠে গেলে কভারে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি অ্যালেক্স ক্যারি।
অবাক করা বিষয় হলো, আজকের ৮ রানই চলতি সিরিজে সৌম্যর সর্বোচ্চ! প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আউট হন ২ রানে। পরের ম্যাচে তো অবস্থা আরও খারাপ, রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আউট হয়েছিলেন মাত্র ২ রানে।
হ্যাজেলউডের কাটারে ঘায়েল সাকিব
মিরপুরের তিন টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতায় অস্ট্রেলিয়া খুব ভালো করেই বুঝে গেছে, মন্থর পিচে ভালো করতে গেলে বোলিংয়ের ধাঁচের পরিবর্তন আনতে হবে। সেটি করেই সাফল্য পেলেন জশ হ্যাজেলউড। অফ কাটারে এই পেসার ফিরিয়েছেন সাকিবকে।
সাকিবের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট। মিরপুরের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল, ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৪৮ রান।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেট না হলেও সাকিবকে প্রায় সব ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ঢংয়ে ব্যাট করতে দেখা গেছে। তবে আজ তিনি ছিলেন সাবধানী। তাতেও কাজ হলো। ২৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। হ্যাজেলউডের করা অফ কাটার তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে।
২ বলে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
সাকিব আল হাসান আউট হয়ে গেলেন। এলেন মাহমুদউল্লাহ। আগের ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি পাওয়ায় তার কাছে প্রত্যাশা এমনিতেই বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পারলেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। মিচেল সুয়েপসনের বলে আউট হয়ে গেছেন। ধাক্কার শেষটা এখানেই নয়, এই স্পিনারের পরের বলেই ফিরে গেছেন নুরুল হাসান সোহান।
মাহমুদউল্লাহ কিংবা সোহান- কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ ৩ বলে ০ ও সোহান প্রথম বলেই ফিরে গেছেন। শেষ ২ বলে তাদের আউট করে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগালেও পরের ওভারে উইকেট নিতে পারেননি সুয়েপসন।
এই লেগ স্পিনার তার ভেল্কিতে এলবিডব্লিউ করে প্রথমে ফেরান মাহমুদউল্লাহকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। পরের বলে সোহানের পায়ে বল আঘাত করলে অস্ট্রেলিয়ানরা করে আবেদন, যদিও সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে সফরকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত এলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় সোহানকে।
ভাঙলো নাঈমের প্রতিরোধ
একপ্রান্ত থেকে উইকেট পড়লেও নাঈম শেখ ছিলেন অবিচল। ওপেনিংয়ে নেমে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে নিজের সঙ্গে বাড়িয়ে নিয়েছেন দলের রান। অবশেষে থাকলো তার প্রতিরোধ। মিচেল সুয়েপসনের বলে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।
আগের ম্যাচে মাত্র ১ রান করে আউট হয়েছিলেন। ব্যর্থতা ঝেরে ক্রিজে থিতু হয়েছিলেন নাঈম। শটসের চেয়ে সিঙ্গেলসে যোগ দিয়ে ইনিংস গড়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই আগ্রাসী হয়ে ওঠার মাশুল দিলেন। সুয়েপসনের গুগলিতে খেই হারিয়ে ধরা পড়েন ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে। বিদায় নেওয়ার আগে নাঈম ৩৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ২৮ রান।
আফিফের পর শামীমও ফিরলেন
অ্যাশটন অ্যাগারের ফুলটস বলের পূর্ণ ফায়দা তুললেন আফিফ হোসেন। মারলেন বিশাল ছক্কা। বাংলাদেশের রানের চাকা দ্রুতগতিতে ঘোরার সম্ভাবনাও উঁকি মারলো। কিন্তু ওই অ্যাগারের বলেই থেমে গেলেন আফিফ। তার বিদায়ের পর শামীম হোসেনে আশা বেঁচে থাকলেও, তিনিও হতাশ করলেন।
২০ রান করে আউট হয়েছেন আফিফ। ১৭ বলের ইনিংসে আছে এক ছক্কার মার। অ্যগারের বলে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন মোয়েসেস হেনরিকসের হাতে। আর শামীম শিকার অ্যান্ড্রু টাইয়ের। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সফট ডিসমিসাল হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। মিডউইকেটে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ধরা পড়ার আগে শামীম ৬ বলে করেন ৩ রান।