ছক্কা হজমের ‘প্রতিশোধ’ নিলেন মাহমুদউল্লাহ

বেন ম্যাকডারমট তাকে মারলেন বিশাল ছক্কা। মাহমুদউল্লাহ ভড়কে যাননি, বরং দুর্দান্তভাবে ফিরে এলেন এক বল পরই। যে ম্যাকডারমটের কাছে ছক্কা হজম করলেন, সেই তাকেই ফেরালেন রিটার্ন ক্যাচ নিয়ে।

ম্যাকডারমটের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া হারায় দ্বিতীয় উইকেট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারীদের স্কোর ছিল ৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৯ রান।

বল হাতে নিয়েই সাকিবের উদযাপন

উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হলো মাত্র ২ বল। বল হাতে নিয়েই সাকিব আল হাসান করলেন উইকেট উদযাপন। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার।

ওয়েড বাংলাদেশ সফরে হয়েছেন অধিনায়ক। নেতৃত্বের ভার তার পারফরম্যান্স আরও খারাপ করে তুলেছিল। শেষ টি-টোয়েন্টিতে এসে তবু কিছুটা হলেও অবদান রাখলেন। সাকিবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২২ বলে করেন ২২ রান। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ ছক্কায়।

মার্শকেও তুলে নিলেন নাসুম

মিরপুরে নাসুম-শো। বাঁহাতি স্পিনারের ম্যাজিক চলছেই। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের পর অস্ট্রেলিয়া দলের ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শকেও তুলে নিয়েছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে রানে আছেন মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন নিয়মিত মুখ না থাকলেও তিনি আশার আলো দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশ সফরেও আছেন ছন্দে। সেই তাকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেওয়া মানে অনেকটাই নির্ভার হয়ে যাওয়া। নাসুম বাংলাদেশকে এনে দিলেন সেই স্বস্তি। বাঁহাতি স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন মার্শ।

ফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। ৯ বলে ৪ রান করে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে।

ক্রিস্টিয়ানকে ফেরালেন নাসুম

আগের ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা মেরেছিলেন ড্যান ক্রিস্টিয়ান। পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তাকে নিয়ে বাজি ধরলো অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দিয়ে নামানো হলো ওপেনিংয়ে। যদিও কাজ হয়নি। নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে শুরুতেই বিদায় নিয়েছেন ক্রিস্টিয়ান।

চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান। মিরপুরের কঠিন পিচে যেখানে ওভারে একটা ছক্কা মারা কঠিন, সেখানে সাকিবের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে মারেন পাঁচ ছক্কা। বল-ব্যাটে কানেক্ট হওয়ায় তাকে ওপেনিংয়ে নামায় অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও এই ব্যাটসম্যানকে বাড়তে দেননি নাসুম। বোল্ড করে মাত্র ৩ রানে থামিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানকে।

বাংলাদেশ করলো ১২২

শেষ টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারলো না বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পায়। তবে সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ইনিংস বড় করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার চমৎকার বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে করেছে ১২২ রান।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটসম্যানরা করেছেন ক্যাচ প্র্যাকটিস। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন সহজ ক্যাচ দিয়ে। তবে এজন্য অস্ট্রেলিয়ার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং প্রশংসার দাবিদার। বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন ড্যান ক্রিস্টিয়ান-নাথান এলিসরা। সবচেয়ে সফল এলিস। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ক্রিস্টিয়ান ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যাশটন টার্নার, অ্যাশটন অ্যগার ও অ্যাডাম জাম্পা।

তাদের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন নাঈম শেখ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান মাহমুদউল্লাহর। সুবিধা করতে পারেননি তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জয়ের নায়ক আফিফ হোসেন (১০) ও নুরুল হাসান সোহান (৮)। প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন ৮ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪ রানে।