সিলেটে জন্ম নেওয়া জাকির হাসানের বড় তিন ভাই ক্রিকেট খেলেন। বড় ভাইদের দেখাদেখি ছোট ভাইও ব্যাট-বল বেছে নেবেন এমনই হওয়ার কথা। হয়েছেও তাই। তারপরও যখন ক্রিকেট শুরু করেন তখন পরিবার থেকে বাধা এসেছে। 'ক্রিকেট খেলে কী হবে, বরং পড়াশুনা মন দিয়ে করো'-এমন কথা শুনতে হয়েছে প্রতিনিয়ত! তারপরও ক্রিকেটেই মজেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। আসন্ন আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠ মাতাতে চান সিলেটের সন্তান জাকির হাসান।
ছোটবেলায় বড় ভাইদের দেখাদেখি ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। একদিন হঠাৎ করে জাকিরের বড় ভাই জিজ্ঞেস করে বসলেন, 'কিরে বিকেএসপিতে ভর্তি হবি নাকি?' এক কথায় রাজি হয়ে যান জাকির। তবে ভর্তি পরীক্ষায় শুরুতে অপেক্ষমান তালিকায় ছিলেন। পরে দিনাজপুর বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মেলে জাকিরের। ওখানেই ব্যাটসম্যান জাকির হোসেন হয়ে উঠেন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান।
জাকির হাসানের প্রিয় ক্রিকেটার মুমিনুল হক সৌরভ। তার ব্যাটিংয়ের চেয়ে ব্যক্তিতই বেশি পছন্দ জাকিরের। মুমিনুলের মতো ব্যক্তিত্ববান হতে চান তিনি।
আসন্ন বিশ্বকাপে দলের চাহিদা পূরণে আশাবাদী জাকির। গত যুব বিশ্বকাপের ৫ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের একজন জাকির হাসান। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের কারণে সেরা একাদশে সুযোগ হয়নি তার। এবার হয়তো বিশ্বকাপে নিজের সহজাত খেলা দিয়ে বিশ্বজয় করবেন তরুণ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনে। আজ বৃহস্পতিবার থাকছে উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের একান্ত সাক্ষাৎকার :-
বাংলা ট্রিবিউন: ক্রিকেটকে কেনও বেছে নিলেন..?
জাকির হাসান: আমার আরও তিন ভাই ক্রিকেট খেলেন। শুরুতে অনেকই আমাকে বলেছেন ক্রিকেট বাদ দিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করতে। পরে অবশ্য আমার বড় ভাই আমাকে বিকেএসপি ট্রায়ালে নিয়ে আসে। ওইখান থেকেই আসলে ক্রিকেট জীবন শুরু হয়। তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট খেলেই অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলে সুযোগ পাই। এরপর ধাপে ধাপে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলার সুযোগ হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: খুব কাছে চলে এসেছে বিশ্বকাপ। দলের প্রস্তুতি কেমন দেখছেন?
জাকির হাসান: দলের প্রস্তুতি অনেক ভালো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে প্রথম দুটি ম্যাচে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তাদের কোনও সুযোগ দেইনি। এছাড়া গত বছর সবগুলো সিরিজেই আমরা ভালো খেলেছি। শুধু ভারতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে আমরা ম্যাচ জিততে পারিনি। এরপর থেকে আমরা আরও অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। বাবুল স্যার নতুন অনেক পরিকল্পনা বাতলে দিয়েছেন। আশা করি বিশ্বকাপের আগেও যদি কারোও কোনও সমস্যা থাকে সব সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলা ট্রিবিউন: নিজের প্রস্তুতি নিয়ে কি সন্তুষ্ট?
জাকির হাসান: এবার জাতীয় লিগে খেলে আমার বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে। যতগেুলো ম্যাচ খেলেছি ভালোই করেছি। বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। বাকি যে কয়েকদিন আছে এর মধ্যে আরও কাজ করবো। আগে আমার ধারাবাহিকতার অভাব ছিলো। এখন তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আশা করি আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন?
জাকির হাসান: এখন পর্যন্ত আমার কোনও সেঞ্চুরি নেই। চেষ্টা করবো এই বিশ্বকাপে এই আক্ষেপটা দূর করার। ভালো খেলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার হতে চাই। বিশ্বকাপে ভালো খেলে দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ পেতে চাই।
জাকির হাসান: আগের বার বিশ্বকাপ খেলে অনেক কিছু শিখেছি। ওই রকম কোনও পরিস্থিতি যদি এখন আসে, খুব ভালো করে সামলাতে পারবো। শুধু আমি নই, আমাদের দলে যে ৫ জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে তারা সবাই জানেন কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের কী করতে হবে। গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, কোনও ম্যাচেই মনোযোগ সরানো উচিত নয়। মনোযোগ একটু সরে গেলেই বিপদ। সবসময় মাঠের বাইরে ও মাঠের ভিতরে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: কোচের ভূমিকা কেমন দেখছেন?
জাকির হাসান: বাবুল স্যারের সঙ্গে ৩ বছর ধরে আমি কাজ করছি। স্যারকে কিছু বলার আগেই স্যার বুঝতে পারে আমরা কী চাচ্ছি। এরপর সেই অনুযায়ি তিনি পরিকল্পনা করেন।
বাংলা ট্রিবিউন: ২০১৪ সালে হয়নি, এবার কতটা সম্ভাবনা দেখছেন?
জাকির হাসান: আমাদের সারাদিন যতবার কথা হয়, প্রসঙ্গ এটাই থাকে। শেষ দুইবার আমরা অনেক ভালো টিম হওয়ার পরও কিছু করতে পারিনি। এবার আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভালো। আমরা সবাই আশাবাদী। এবার আশা করি কোন ভুল হবে না।
বাংলা ট্রিবিউন: মাশরাফির অনুপ্রেরণা কতটুকু নিচ্ছেন?
জাকির হাসান: তিনি আমাদের চাপ নিতে মানা করেছেন। একটি একটি ম্যাচ নিয়ে ভাবতে বলেছেন। আমিও এভাবে চিন্তা করছি। আসলে অনেক দুর ভাবলে কিছুই ঠিকমতো হয় না।
প্রোফাইল
নাম: মোহাম্মদ জাকির হাসান
ডাক নাম: জাকির
জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮
জন্মস্থান: সিলেট
উচ্চতা: ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি
ওজন: ৬৬ কেজি
পড়াশুনা: এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষ
প্রথম ক্লাব: নর্থবেঙ্গল ক্রিকেট একাডেমি
বর্তমান ক্লাব: বিকেএসপি
বোলিং স্টাইল: বাঁহাতি ব্যাটসম্যান
প্রিয় শট: স্কয়ার কাট
প্রিয় ক্রিকেটার: মাইক হাসি (অস্ট্রেলিয়া) এবং মুমিনুল হক (বাংলাদেশ)
ক্রিকেট ছাড়া অন্য প্রিয় খেলা: ফুটবল
প্রিয় ফুটবল তারকা: মেসি
ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত : জাতীয় লিগে বরিশালের সঙ্গে অপরাজিত ১৩৭ রানের ইনিংস।
ছবি : সাজ্জাদ হোসেন
/এমআর/