টি-টোয়েন্টি দলে থেকে টেস্টের প্রস্তুতি!

পরপর তিন বলে তাইজুলের ৩ উইকেট। টিনাশে পানিয়াঙ্গারাকে বোল্ড করে শুরু করেছিলেন, শেষ করেন টেন্ডাই চাতারাকে বোল্ড করে। এভাবেই অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সীমিত ওভারের ক্রিকেট পাশ কাটিয়ে তাইজুল এখন টেস্টের ‘অটোমেটিক চয়েজ’। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দলে থাকলেও সুযোগ হয় না একাদশে। তাই টি-টোয়েন্টির দলে থেকে টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন বাঁহাতি স্পিনার।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তাইজুল সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ওয়ানডেও খেলেছেন ওই সিরিজেই। গত কিছুদিন ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দলে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হচ্ছে না। যদিও তাইজুল সাদা বলের ম্যাচের স্কোয়াডে থেকেই নিজের প্রস্তুতিটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ (শনিবার) মিরপুরে ঐচ্ছিক অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘দলের বাইরে থাকলে আমি এই আবহটা পেতাম না। এখানে থাকায় আমি কোচদের... রঙ্গনা হেরাথ আছে, ব্যাটিং কোচ আছে ও সাপোর্ট স্টাফের যারাই আছে, সবাই আমাকে অনেকভাবেই সহযোগিতা করছেন। যখন যেটা চাচ্ছি, সহজেই সেটা পাচ্ছি। আমার মনে হয়, সামনের দিনের প্রস্তুতির জন্য এটা খুব ভালো হচ্ছে।’

বাংলাদেশ দল নিয়মিত সীমিত ওভারের ম্যাচ পেলেও টেস্ট সেভাবে পায় না। গত জুনে জিম্বাবুয়েতে টেস্ট খেলার পর বাংলাদেশের পরের টেস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে নভেম্বরে। পাঁচ মাসের বিরতিতে তাই ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকেই যায়। তাইজুল অবশ্য বিরতি নিয়ে ভাবছেন না, ‘আমি অনেকদিন ধরেই ম্যাচ খেলছি না। তিন-চার মাস হয়ে গেছে। টিম কম্বিনেশনের কারণেই হোক কিংবা যেকোনও কারণে, ম্যাচগুলোতে আমার খেলা হয়নি। আমি অবশ্য এটা নিয়ে চিন্তিত নই। সুযোগ আসলে ইনশাআল্লাহ আমি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। আমি আমার কাজগুলো যথাযথভাবে নিজের সাধ্যমতো করে যাচ্ছি।’

তাইজুল আরও বলেছেন, ‘আমার যারা প্রতিদ্বন্দ্বী তারা অনেক ভালো করছে। আশা করি, সামনেও তারা অনেক ভালো করবে। আর আমি যখনই সুযোগ পাবো, ভালো করার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশকে ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

এই কাজ করতে গিয়ে সতীর্থদের সাপোর্টের কথাও উল্লেখ করেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার, ‘সতীর্থদের সাপোর্ট তো সবসময়ই পেয়ে এসেছি। এখনও পাচ্ছি। আমিও একইভাবে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি। জানি না কতটুকু দিতে পারছি। ইনশাআল্লাহ, সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’