বিপদে বাংলাদেশ 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিততে ১২৯ রানের লক্ষ্যে আগ্রাসী সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারানোর পর পুরোপুরি কোণঠাসা স্বাগতিকরা। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২ ওভারে ৬ উইকেটে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৫৩ রান।  

মিরপুরে প্রথম দুই ম্যাচের তুলনায় ভালো হয়ে ওঠা পিচে দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলতে থাকেন দুজন। কিন্তু ২.৫ ওভারে ঘটে ছন্দপতন। ম্যাকনকির ভেতরে ঢোকা বলে সুইপ করতে গিয়েছিলেন লিটন। পরাস্ত হওয়ায় বল গিয়ে আঘাত করে প্যাডে। লেগ বিফোর হয়ে লিটন ফেরেন ১৫ রানে। 

প্রমোশন পেয়ে তারপরেই নামেন মেহেদি হাসান। কিন্তু ওপরে নামার সদ্ব্যবহার করতে পারলেন না। এজাজ প্যাটেলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন মিড-উইকেটে। একই ওভারে নতুন নামা সাকিবও হতাশ করলেন। উড়িয়ে খেলতে গেলে তালুবন্দি হয়েছেন ম্যাকনকির। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ফেরেন শূন্য রানে।  

সম্ভাবনাময়ী নাঈম দারুণ সূচনা করলেও ষষ্ঠ ওভারে পরাস্ত হন পুরোপুরি। রাচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে প্লেইড অন হয়ে বোল্ড হন ১৩ রানে। তার ১৯ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার। 

৩২ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ভালো চাপেই পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সেখান থেকে উত্তরণে ভূমিকা রাখবেন কি, এজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে ক্যাচ তুলে ফেরেন মাত্র ৩ রানে। 

পরের বলে তো আফিফও পরাস্ত হন তার ঘূর্ণিতে। বোল্ড হয়ে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগে। ভীষণ চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়ে যেতো, যদি সোহান রানআউটে সাজঘরে ফিরতেন। কিন্তু আগেই ব্যাট প্লেস করে দেওয়ায় প্রাণ ফিরে পান তিনি। 
  
শুরুতে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে করেছে ১২৮ রান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কথা চিন্তা করলে লক্ষ্য খুব একটা সহজ নয়। তবে মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় নিলে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। 

ষষ্ঠ উইকেটে হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেলের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে নিউজিল্যান্ড। মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও লোয়ার মিডল অর্ডারে রান পেয়েছে সফরকারীরা। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৬* রান এসেছে নিকোলসের ব্যাট থেকে। ২৯ বলের হার না মানা ইনিংসটি তিনি সাজান ৩ বাউন্ডারিতে। ব্লান্ডেল ৩০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে।

বাংলাদেশের সেরা বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট। মাহমুদউল্লাহ ১০ রানে নেন ১ উইকেট। মেহেদী হাসান ২৭ রানে ও মোস্তাফিজুর রাহমান ২৯ রানে নেন একটি করে উইকেট।