বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে নেই কোনও চমক। কয়েক সিরিজ টানা খেলা ক্রিকেটারদের নিয়েই হয়েছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল। গত তিন সিরিজে ১৯ ক্রিকেটার নিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ক্যাম্প। সেখান থেকে ১৭ জনকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। মূল স্কোয়াডের ১৫ জনের সঙ্গে স্ট্যান্ডবাই আছেন দুজন। যেখানে সুযোগ হয়নি মোসাদ্দেক হোসেনের। তবে জিম্বাবুয়েতে অভিষেক হওয়া অলরাউন্ডার শামীম হোসেন আছেন বিশ্বকাপ দলে। শামীমের অন্তর্ভুক্তি ও মোসাদ্দেকের বাদ পড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।
গত মার্চে নিউজিল্যান্ড থেকে চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে ১৫ টি-টোয়েন্টি। গত চারটি সিরিজে দলে থাকলেও মোসাদ্দেক খেলেছেন মাত্র দুই ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ডের শেষ ম্যাচ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে। সেই দুই ম্যাচে খুব ভালো পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
প্রধান নির্বাচক জানালেন, মোসাদ্দেক তাদের বিশ্বকাপ ভাবনাতেই ছিলেন না। আজ (বৃহস্পতিবার) বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমকে নান্নু বলেছেন, ‘যে ১৫ জনকে আমরা নিয়েছি, এদেরকে নিয়ে আমরা যথেষ্ট আলোচনা করেছি। ঘরের মাঠে যে পরিকল্পনায় খেলা হচ্ছে, এর বাইরে ওমানে গিয়ে আমরা যে পরিকল্পনায় খেলবো সেই কথা মাথায় রেখে এই ১৫ জনকে নির্বাচন করেছি। মোসাদ্দেক আমাদের ভাবনাতে ছিল না। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে আমরা দুজনকে নিয়েছি, একজন ফাস্ট বোলার অন্যজন স্পিনার। কেউ ইনজুরিতে পড়লে ওখান থেকে নেওয়া হবে।’
যুব বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার শামীমের অভিষেক হয় জিম্বাবুয়েতে। অভিষেক ম্যাচে ২৯ রান করে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ৩১ রান করে দলের জয়ও নিশ্চিত করেছিলেন শামীম। যদিও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে চার ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। তারপরও নান্নু লোয়ার অর্ডারে তার ওপর আস্থা রাখছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে সে আছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার, এইচপির হয়ে সে যথেষ্ট নার্সিং হয়েছে এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ও (শামীম) যে স্টাইলে খেলে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যথেষ্ট ভালো করবে।’
একজন লেগ স্পিনার প্রতিটি দলের সম্পদ হয়ে উঠেন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বরাবরই অবহেলার শিকার তারা। যার সর্বশেষ উদহারণ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না দীর্ঘদিন ধরেই। নির্বাচকরা তরুণ এই লেগ স্পিনারকে বিশ্বকাপের স্ট্যান্ডবাই দলে রেখেছেন। বিপ্লবের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘লম্বা সময় কিন্তু সে অসুস্থতায় ছিল, এখান থেকে সে ফিরে এসেছে। তারপরও ওকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি। দুর্ভাগ্যবশত আমরা যে পরিকল্পনায় খেলবো, সেখানে সে পড়ছে না, তাই তাকে মূল দলে রাখা যায়নি।’
বিপ্লবের মতো রুবেলও মূল দলে নেই। মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুযোগ পাচ্ছেন না রুবেল। মূল স্কোয়াডে ডানহাতি পেসারের না থাকা নিয়ে নান্নু বলেছেন, ‘দেখেন, দলে যখন ৫-৬ জন পেসার থাকে, সবাইকে কিন্তু ১১ জনের মধ্যে খেলানো মুশকিল। আর দল যখন ভালো খেলতে থাকে, তখন টিম ম্যানেজমেন্ট একাদশ বদলও করতে চায় না। ধারাবাহিকভাবে ওই ১১ জনের ওপরই বিশ্বাস রাখা হয়। সেই হিসেবে রুবেল ম্যাচ পায় না। কিন্তু রুবেল আমাদের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ক্রিকেটার। আমি মনে করি, ও নিজেকে তৈরি করে রেখেছে, যখন দরকার হবে আমরা ওর সেরা সার্ভিসটা পাবো।’