দেড়শ’ ছাড়িয়েছিল আগের ম্যাচে। তবে অসন্তুষ্টি ছিল। কারণ, আইসিসির সহযোগী দেশ ওমানের বিপক্ষেও সুবিধা করা যায়নি। তবে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিতের ম্যাচে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তো বটেই, প্রতিযোগিতারই সর্বোচ্চ স্কোর গড়লো বাংলাদেশ।
আজ (বৃহস্পতিবার) ওমানের আল আমিরাত স্টেডিয়ামে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে টস জিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রান করেছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি (২৮ বলে ৫০), সাকিব আল হাসানের কার্যকর ইনিংস (৩৭ বলে ৪৬) এবং আফিফ হোসেন (১৪ বলে ২১) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের (৬ বলে ১৯*) ঝড়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে সুবিধা করতে পারেননি নাঈম শেখ (০), মুশফিকুর রহিম (৫) ও নুরুল হাসান সোহান (০)। ২৩ বলে ২৯ রান করেছেন লিটন দাস।
তারপরও বাংলাদেশ গড়েছে এখন পর্যন্ত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর। গতকাল (বুধবার) শ্রীলঙ্কার করা ১৭১ রান ছিল সর্বোচ্চ। তবে সাইফউদ্দিনের শেষের ঝড়ে ওই স্কোর টপকে সর্বোচ্চ সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।
পিএনজির তিন বোলার- কাবুয়া মোরেয়া, দামিয়েন রাভু ও আসাদ ভালা প্রত্যেকে নেন দুটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় বলেই আউট নাঈম
ওমানের বিপক্ষে দুইবার বেঁচে গিয়েছিলেন নাঈম শেখ। দুইবারই ক্যাচ মিসে পেয়েছিলেন নতুন ‘জীবন’। তবে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে বাঁহাতি ওপেনারের ‘ভাগ্য’ সহায় হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে গেছেন নাঈম।
ইনিংসের প্রথম বলই অস্বস্তি নিয়ে খেলেছেন নাঈম। কাবুয়া মোরেয়ার ডেলিভারি তার ব্যাটের কানায় লেগে গেলেও উইকেটকিপার গ্লাভসে নিতে পারেননি। পরের বলেই করলেন ভুল! ডিপ স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই নাঈম ধরা পড়েন সেসে বাউয়ের হাতে।
পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের পর লিটনের বিদায়
ওমানের বিপক্ষে জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ আলাদা করে বলেছিলেন পাওয়ার প্লেতে উন্নতির কথা। অধিনায়কের আহ্বান ফুটে উঠলো পাপুয়া নিউগিনি ম্যাচে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তবে ধাক্কা হয়ে এসেছে লিটন দাসের বিদায়।
পাওয়ার প্লে একেবারেই কাজে লাগাতে পারছিল না বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬ ওভারে এসেছিল ২৫ রান। ওমান ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেনি, করতে পারে ২৯ রান। তবে পিএনজি ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে এসেছে ৪৫ রান। এই সময়ে লিটন দাস ছিলেন খুবই রক্ষণাত্মক। বাউন্ডারির চেয়ে সিঙ্গেল-ডাবলসের ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন।
আসাদ ভালার বলে স্লগ সুইপ খেলেছিলেন লিটন। কিন্তু উড়ে যাওয়া বল ডিপ মিডউইকেটে ঝাঁপিয়ে তালুতে নেন সেসে বাউ। ফেরার আগে লিটন ২৩ বলে এক চার ও এক ছক্কায় করেন ২৯ রান।
মুশফিকের ব্যর্থতার গাড়ি চলছেই
বড্ড অচেনা মুশফিকুর রহিম। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে রান খরা চলছে তার। ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে বিবর্ণ ছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কিছুটা ছন্দে দেখা গেলেও ওমান ম্যাচে আবার হতাশ করেন। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বেরোনোর ভালো সুযোগ ছিল পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। কিন্তু এই ম্যাচেও চলমান তার ব্যর্থতার গাড়ি।
বায়ো বাবলের কারণে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা হয়নি মুশফিকের। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিরিয়েছিলেন, কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। যদিও বিশ্বকাপে তার সেরাটা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মুশফিককে তার রূপে পাওয়া যাচ্ছে না। পিএনজির বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কোথায় দলের হাল ধরবেন, সেখানে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে বিদায় নিয়েছেন মাত্র ৫ রানে।
সিমন আতাইয়ের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে তিনি ধরা পড়েন হিরি হিরির হাতে। হিরির প্রথম প্রচেষ্টায় বল তালুতে জমাতে পারেননি। বল তার হাতে ড্রপ খেলেও পরবর্তী চেষ্টায় ঠিকই তালুতে নিতে পারেন।
দারুণ ক্যাচে ফিরলেন সাকিব
চমৎকার খেলছিলেন সাকিব আল হাসান। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করে হাত খুলতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দারুণ এক ক্যাচে আউট হয়ে গেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। ফলে হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে ফিরতে হয় তাকে।
শুরুতেই বাংলাদেশ উইকেট হারালে সাকিব ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গড়ার কাজ করেছেন। তবে প্রয়োজনে আবার চড়াও হয়েছেন পিএনজি বোলারদের ওপর। যার প্রমাণ হলো, তার খেলা ৪৬ রানের ইনিংসে কোনও চার না থাকলেও আছে তিনটি ছয়ের মার। আসাদ ভালার বলে আউট হলেও সাকিবের উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে চার্লস আমিনির। লং অনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। বেশ খানিকটা দৌড়ে এগিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে বল তালুতে নেন আমিনি।
ফলে একটুর জন্য হাফসেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি সাকিবের। ৩৭ বলে ৪৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ফিফটি
দামিয়েন রাভুর ফুলটস বল মাহমুদউল্লাহর ব্যাট হয়ে জমা পড়লো চাদ সোপারের হাতে। আউট হওয়ারই কথা। তবে ফিল্ড আম্পায়াররা ‘নো’ বল চেক করতে টিভি আম্পায়ারের সাহায্য নিলেন। ফুটেজ দেখে শুরুতে মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘নট আউট’! তবে কিছুক্ষণ পরই আবার সিদ্ধান্ত জানানো হয় ‘আউট’। এভাবে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মাহমুদউল্লাহ খেলে যান ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। ২৮ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই দ্রুত রান উঠেছে স্কোরবোর্ডে।