মুশফিক-নাঈমের হাফসেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ বাংলাদেশের

ওপেনিংয়ে দারুণ এক ইনিংস খেললেন নাঈম শেখ। মিডল অর্ডারে আলো ছড়ালেন মুশফিকুর রহিম। এই দুই ব্যাটারের হাফসেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। ৩২ বলে ফিফটি পেয়েছেন মুশফিক, আর নাঈম মাইলফলকটি স্পর্শ করেন ৪৪ বলে। তাই অন্য ব্যাটাররা সুবিধা করতে না পারলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা স্কোরে জমা করেছে ৪ উইকেটে ১৭১ রান।

আজ (রবিবার) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে নেমেছে বাংলাদেশ। টস জয়ী শ্রীলঙ্কার আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না মাহমুদউল্লাহদের। লিটন দাস ও নাঈম মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪০ রান। তবে লিটনের (১৬) পর সাকিব আল হাসান (১০) দ্রুত ফিরে গেলে চাপ তৈরি হয়। এরপরই শুরু নাঈম-মুশফিকের প্রতিরোধ। দারুণ ব্যাটিংয়ে নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিয়েছেন তারা।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে নাঈম ৫২ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৬২ রান। আর দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টিতে ফর্মে ফিরে মুশফিক ৩৭ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে। তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন ১০* রান করা মাহমুদউল্লাহ।

শ্রীলঙ্কার তিন বোলার- চামিকা করুণারত্নে, বিনুরা ফার্নান্ডো ও লাহিরু কুমারা প্রত্যেকে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

লিটন-কুমারার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

আগের ওভারেই লাহিরু ‍কুমারা বল ছুুড়ে মেরেছিলেন ‍নাঈম শেখের দিকে। মাথা নিচু করে নিজেকে রক্ষা করেন নাঈম। পরের ওভারে এসে লিটন দাসকে আউট করলেন এই পেসার। কিন্তু পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠেছিল এই দুজনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে। লিটনের সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে তর্কে জড়িয়েছিলেন কুমারা। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দুজন মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়ে পড়েন। শেষমেশ শ্রীলঙ্কান ফিল্ডার ও নাঈমের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়।

ডানহাতি ওপেনার ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না। খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও অন্তত উইকেট ধরে রেখেছিলেন লিটন। কিন্তু কুমারার বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে খেলতে চাইলেন। ব্যাটে ঠিকমতো লাগাতে পারেননি। ফলে মিড-অফে ধরা পড়েন দাসুন শানাকার হাতে।

প্যাভিলিয়নে ফেরার আগেই তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় কুমারার। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১৬ রান, যাতে আছে দুটি চারের মার।

বোল্ড হয়ে গেলেন সাকিব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার কাছে বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ব্যাট হাতে প্রত্যাশার জবাবটা ঠিকমতো দিতে পারলেন না। মাত্র ১০ রান করে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।

শুরুটা দারুণ হয়েছিল সাকিবের। লঙ্কান বোলারদের চাপে রেখে শটস খেলছিলেন। ভালো একটি ইনিংসের ছিল ইঙ্গিত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি। চামিকা করুণারত্নের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তিনি। ফেরার আগে ৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ১০ রান।

বাউন্ডারি মেরে নাঈমের হাফসেঞ্চুরি

আবারও হাফসেঞ্চুরি পেলেন নাঈম শেখ। পাপুয়া নিউগিনির ম্যাচের হতাশা ঝেরে জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি ওপেনার। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন তিনি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। ওমানের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নাঈম। ৫০ বলে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। তবে পিএনজির বিপক্ষে পরের ম্যাচে ফেরেন খালি হাতে। ওই ব্যর্থতা কাটিয়ে সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচেই আবার জ্বলে উঠলেন তিনি। লাহিরু কুমারার বলে বাউন্ডারি মেরে ৪৪ বলে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়া বাঁহাতি ওপেনারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি।

দারুণ এক ইনিংস খেলে ফিরলেন নাঈম

ঠিক টি-টোয়েন্টিসুলভ হয়তো স্কোর নয়, ৫২ বলে ৬২ রান। কিন্তু নাঈম শেখের এই ইনিংসটার কার্যকারিতা অনেক। একদিকে যেমন একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন, অন্যদিকে বাড়িয়ে নিয়েছেন দলের রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে তার এই ইনিংসটা কল্যাণেই মূলত বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয় বাংলাদেশের।

বিনুরা ফার্নান্ডোকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন নাঈম। লঙ্কান পেসারের স্লোয়ারে পুল শট খেলতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশি ওপেনার। কিন্তু বল তার ব্যাটের কানার লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ নিতে কোনও অসুবিধাই হয়নি বিনুরার। ফেরার আগে নাঈম ৫২ বলে ৬ বাউন্ডারিতে খেলে যান ৬২ রানের ইনিংস।

মুশফিকের ঝড়ো ফিফটির পর আফিফের বিদায়

ছন্দে ফিরলেন মুশফিকুর রহিম। নিজেকে ফিরে পাওয়া এই ব্যাটার পেয়েছেন ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। ৩২ বলে ফিফটির দেখা পেয়েছেন তিনি। তবে মুশফিকের বিদায়ের পরই ফিরে গেছেন আফিফ হোসেন।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে রান খরা চলছিল মুশফিকের ব্যাটে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচেও রান পাননি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৮ রান করলেও তার স্ট্রাইকরেট উঠেছিল কাঠগড়ায়। সব মিলিয়ে কঠিন চাপে থাকা এই ব্যাটার অবশেষে নিজেকে ফিরে পেলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাওয়া গেলো সত্যিকারের মুশফিককে। এ নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি।

তবে সুবিধা করতে পারেননি আফিফ হোসেন। এই ব্যাটার ৬ বলে মাত্র ৭ করে রান আউটের শিকার হন।