মুশফিকের হাফসেঞ্চুরি তাহলে পাপনের সমালোচনার জবাব?

গত কিছুদিন ধরেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে রান খরায় ভুগছিলেন মুশফিকুর রহিম। ২০১৯ সালে দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতেছিলেন। সেটাই ছিল মুশফিকের সর্বশেষ হাফসেঞ্চুরি। এরপর সময়ের হিসেবে কেটে গেছে দুটি বছর, ম্যাচের হিসেবে পাক্কা ১১ ম্যাচ! লম্বা সময় পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকের এই হাফসেঞ্চুরি নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে ড্রেসিংরুমে।

চলতি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওই ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেও সমালোচিত হতে হয়েছিল উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যানকে। কেননা তার ওই ইনিংস দলকে জেতাতে পারেনি। ফলে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মুশফিকসহ বাকি দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব-মাহমুদউল্লাহর এমন স্লো ব্যাটিংয়ের সমালোচনা করে হারের জন্য তাদেরকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

একে তো হারের গ্লানি, তার মধ্যে আবার বোর্ড সভাপতির সমালোচনা। সবমিলিয়ে মুশফিক ওমানের বিপক্ষে ‘অন্ধকার মুখ’ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। এমনকি নিজের ব্যাটিং পজিশন পিছিয়েও নিয়ে যান আট নম্বরে। ওই ম্যাচে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। ৬ রান করে আউট হয়েছেন। এরপর পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষেও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। তাই সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে মুশফিকের ফর্মে ফেরাটা জরুরি ছিল। হয়েছেও তাই।  

লাহিরু কুমারার বলে লংঅনে সিঙ্গেল নিয়ে দুই বছরের খরা কাটিয়েছেন মুশফিক। ৩২ বলে পৌঁছান হাফসেঞ্চুরি। যা আবার বিশ্বকাপে মুশফিকের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। এর আগের ২৩ ইনিংস খেলে কোন হাফসেঞ্চুরি ছিল না তার।

৩৭ বলে মুশফিক অনবদ্য ৫৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ৫ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। ১৫৪.৫ স্ট্রাইকরেটে মুশফিক বোর্ড প্রধানের কড়া সমালোচনার জবাব কি তাহলে ব্যাট হাতেই দিলেন?