অনেক প্রত্যাশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বার বার একই ভুলের পুনরাবৃত্তিতে তারা সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের কাছে গেলেও ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে। তাই মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিততে গেলে বাংলাদেশ দলকে একই ভুলের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ফিল্ডিংয়ে উন্নতি
প্রায় প্রতি ম্যাচেই মিস ফিল্ডিং ভুগিয়েছে দলকে। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তো বলতে গেলে ‘মাখন মাখানো হাত’ নিয়ে ফিল্ডাররা নেমেছিলেন! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটা ক্যাচ মিস করেছেন আফিফ, মেহেদীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত এখানে উন্নতি না হলে হারের বৃত্ত ভাঙতে পারবে না বাংলাদেশ।
আরেকটি পরিসংখ্যানও এখানে উল্লেখযোগ্য। এই বছরটাকে বলা যেতে পারে টাইগারদের ক্যাচ মিসের বছর! ৩৩ ম্যাচে ৪৭টি ক্যাচ ড্রপ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সাল থেকে হিসেব করলে যা সর্বোচ্চ! এই বছরে বেশি ক্যাচ মিসের তালিকাতেও দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। প্রথমে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।
পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং; কোন বিভাগেই পাওয়ার প্লেতে তারা ভালো করতে পারেনি। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ভালো করতে না পারলে শুরুতেই চাপ তৈরি হওয়ার শঙ্কা থাকবে।
মোস্তাফিজের স্বরূপে ফেরা
মোস্তাফিজকে পাড়ার বোলার বানিয়ে তাকে নিয়ে খেলছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার শেষ ওভারের তিন ছক্কাকেই টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখেছে প্রতিপক্ষ। একসময়ে ব্যাটারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া এই বোলারের বিপক্ষে এখন রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ব্যাটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোস্তাফিজের ফর্মে ফেরা তাই ভীষণ জরুরি। গত কয়েক ম্যাচে মোস্তাফিজের সার্ভিস ঠিকমতো না পাওয়াতেই বাংলাদেশ দলকে ভুগতে হচ্ছে। সহযোগী দেশগুলোর ব্যাটাররাও তাকে অবলীলায় খেলেছেন! শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সুসময় ফেরাতে পারেননি তিনি।
প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার
কাগজে-কলমে দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দল। তারপরও নিজেদের দিনে সেরাটা খেলতে পারলে বাংলাদেশকে হারনো বেশ কঠিনই। সেক্ষেত্রে প্রোটিয়ারা কোন সুযোগ দিলে সেগুলো লুফে নিতে হবে। এছাড়া কোচিং স্টাফদের বেশিরভাগই দক্ষিণ আফ্রিকান বলে তাদের সম্পর্কে বাড়তি ধারণা দলকে সহায়তা করতে পারে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তাই তো বলেছেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করেছি, আমরা জানি যে তারা স্পিন যেভাবে খেলে, তাতে সবসময় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকে। আশা করি, কন্ডিশন আগামীকাল আমাদের সাহায্য করবে। কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে খেলবো, তখন কাজে লাগাতে চাই। আজ সকালে আমাদের মধ্যে কিছু ভালো আলোচনা হয়েছে।’
মুশফিকের ভুল থেকে শিক্ষা
দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। কিন্তু প্রতি ম্যাচেই দারুণ শুরু করা মুশফিক বাজে শটে আউট হয়ে ফিরছেন। তখন দল পড়ে যায় অথৈ সাগরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০ বলে প্রয়োজন ছিল ৫২ রান। কিন্তু ফালতু ঝুঁকি নিয়ে স্কুপ করতে গিয়েই আউট হয়েছেন মুশফিক। আর তার আউটেই সহজ লক্ষ্যটি হয়ে যায় ভয়ঙ্কর কঠিন। এই ভুলগুলো শুধরাতে হবে মুশফিককে। কেননা সাকিব না থাকায় মিডল অর্ডারে এখন তাকেই গুরু দায়িত্ব সামলাতে হবে।