৫ বছরের ছোট ক্যারিয়ারে অসাধারণ সব কীর্তি আছে পেসার তাপস বৈশ্যর। মাশরাফির সঙ্গে জুটি বেঁধে লাল-সবুজ দলকে দিয়েছেন অনেক সুখস্মৃতি। ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া তাপস ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন। খেলা ছাড়লেও ক্রিকেট তাকে ছাড়েনি, যুক্তরাষ্ট্রে খুলেছেন ক্রিকেট একাডেমি। সাকিব-মুশফিকদের খেলা হলেই টিভির সামনে বসে পড়েন। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে সাকিব-মাহমুদউল্লাহদের পারফরম্যান্সে পুরো হতাশ সাবেক এই পেসার।
১৯৮২ সালে জন্ম নেওয়া এই সিলেটি ক্রিকেটার পরিবার নিয়ে সুদূর আমেরিকায় অবস্থান করছেন। বর্তমান দলের দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তার আছে। যদিও তখন তারা একেবারেই তরুণ। ক্রিকেটারদের বর্তমান পারফরম্যান্স দেখে নিজের সময়টার সঙ্গে তুলনা টেনে তাই খোঁচা দিয়েছেন তাপস।
মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পর নিজের ফেসবুকে তাপস লিখেছেন, ‘ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম ১০ গেম যদি এই রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেতেন ঘরে আর ঘরের বাইরে, তখন বুঝতেন আমরা কী রকম কষ্টে ছিলাম আর কতো কঠিন ছিলে আমাদের সময়টা ২০০০-২০০৭। ওই সময়ের বোলার/ব্যাটারদের নাম মনে হলে ঘুমের ঘোরে এখনও কেপেঁ উঠি।’
তাপস বৈশ্যের এমন কথার যুক্তিও আছে। ব্রেট লি, শোয়েব আখতার, চামিন্দা ভাসরা যখন খেলতেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশে দলের জার্সিতে খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। বল হাতে বিশ্বখ্যাত ব্যাটারদের বিপক্ষে নাভিশ্বাস উঠে যেত তখন। পাশাপাশি দারুণ সব বোলারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও ঘাম বেরিয়ে যেত। এইসব পুরনো কথাই তাপস মনে করিয়ে দিলেন! যিনি জাতীয় দলের হয়ে ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। সবমিলিয়ে ৭২০ রান ও ৯৫ উইকেট পেয়েছেন। ৭৭ ম্যাচের মধ্যে টেস্ট রয়েছে ২১টি ও ওয়ানডে ৫৬টি।
২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দিন অবদান ছিল তারও। বল হাতে রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক ও ড্যামিয়েন মার্টিনের মতো তারকাদের সাজঘরে পাঠিয়ে সেরা বোলিং করেছিলেন।