এর চেয়ে বাজে ব্যাটিং হয় না!

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। হোম কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। কিন্তু কন্ডিশন বদল হওয়ার সঙ্গে বদলে গেছে বাংলাদেশের চেহারাও। বাজে ব্যাটিংয়ে আবারও লজ্জায় ডুবলো মাহমুদউল্লাহরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে অলআউট হয়েছে মাত্র ৭৩ রানে 

শুরুতেই আসলে শেষ! দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে সামান্য প্রতিরোধও গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। তবে ব্যাটারদের এমন অসহায় লাগেনি। মিচেল স্টার্ক কিংবা জশ হ্যাজেলউডের সামনে লিটন দাস-সৌম্য সরকারদের অবস্থা ছিল অসহায় আত্মসমর্পণ করার মতো। মাঠে নামার আগেই যেন ‘হার’ স্বীকার করে বসেছিলেন তারা। শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল মারাত্মক। যা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তাদের ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিঃসন্দেহে ব্যাটিংই ডুবিয়েছে। তবে এর চেয়ে বাজে ব্যাটিং আর হয় না!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। বলার অপেক্ষা রাখে না ওই ম্যাচের ব্যাটিং কতটা প্রভাব ফেলেছিল দলে। এমনিতেই টিম ম্যানেজমেন্টে নানা ঝামেলা, তার সঙ্গে বাইরের ইস্যু মিলিয়ে অবস্থা ভালো ছিল না। তার মধ্যে এমন ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহদের মনোবলে ধাক্কা লাগে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেনি। বরং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫ ওভারে ৭৩ রানে অলআউট হয়ে আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে আত্মবিশ্বাস।

মাহমুদউল্লাহর কথাই ধরা যাক। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল তিনি কেন খেলতে গেলেন হয়তো ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে সেটাই ভাবছিলেন। বলটা খেলতে না গেলে ওয়াইড হতো নিশ্চিত। ১ রান আসবে কী, উল্টো উইকেট হারালো বাংলাদেশ! অধিনায়কের আউটের দৃশ্যটাই যেন গোটা দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের চিত্র।

তিনি তবু চেষ্টা করেছেন। বাকিরা? ব্যাটিং করাই যেন ভুলে গেছেন। লিটন, সৌম্য, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন যেন ‘অতিথি’ চরিত্র! যেখানে শামীম হোসেনের ১৮ বলে খেলা ১৯ রান দলীয় সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। তার বাইরে নাঈম শেখের ১৬ বলে ১৭ ও মাহমুদউল্লাহর ১৮ বলে ১৬ রান কেবল দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারে।

বাংলাদেশের টপ অর্ডার ভেঙে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা। তবে সবচেয়ে সফল স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানো এই লেগ স্পিনার কীর্তিটা গড়তে পারতেন যদি উইকেটকিপার ম্যাথু ওয়েড ক্যাচটা না ছাড়তেন। তারপরও জাম্পা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তার শিকার ৫ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক ও হ্যাজেলউড।

‘গোল্ডেন ডাক’ নিয়ে সাজঘরে লিটন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। অনেক সমালোচনার জবাব দেওয়ার সুযোগ ছিল লিটন দাসের। কিন্তু কীসের কী! ‘গোল্ডেন ডাক’-এর হতাশা নিয়ে মুখ নিচু করে সাজঘরে ফিরতে হলো তাকে। মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন লিটন।

কিছুই করতে পারলেন না লিটন। হতাশা বাড়িয়ে নিজের সামর্থ্যের ওপর আবারও প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিলেন। স্টার্কের ফুল লেন্থ বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু পারেননি, ব্যাটের কানায় লেগে অফ স্টাম্পে আঘাত করে বল। ফল, মুখোমুখি প্রথম বলেই আউট!

সৌম্যর বোল্ডের পর মুশফিকের বিদায়

ব্যাটে বল লেগে আঘাত করলো স্টাম্পে। লিটন দাসের আউটের মতো সৌম্য সরকারেরও একই দশা। লিটনের মতো বাঁহাতি এই ব্যাটারও বোল্ড হয়ে ফিরেছেন। জশ হ্যাজেলউডের বলে তিনি আউট হওয়ার পর আরও বড় ধাক্কা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের শিকার হয়ে ফিরে গেছেন মুশফিকুর রহিম।

লিটনের বিদায়ে এমনিতেই চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গায় ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য হাল ধরবেন কী, উল্টো আউট হয়ে আরও চাপ বাড়িয়ে গেলেন। হ্যাজেলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাট দিয়ে টেনে স্টাম্পে লাগালেন সৌম্য। ফলে ৫ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

বাঁহাতি ব্যাটারের বিদায়ের পর আরও ধাক্কা লাগে মুশফিক আবারও ব্যর্থ হলে। মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের তার ওপর প্রত্যাশা ছিল অনেক। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তার প্রতিদান দিতে তো পারলেনই না, বরং আউট হয়ে আরও খারাপ অবস্থায় ছেড়ে আসেন দলকে। ম্যাক্সওয়েলের স্পিনের এলবিডব্লিউয়ে হয়ে ফেরার আগে তিনি করতে পারেন মাত্র ১ রান।

উইকেট বিলিয়ে এলেন নাঈম

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার মাঝে অন্তত কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছিলেন নাঈম শেখ। সুযোগ বুঝে শটসও খেলছিলেন। কিন্তু স্থির থাকতে পারলেন না এই ওপেনার। বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে এলেন তিনি। জশ হ্যাজেলউডের বাড়তি বাউন্সারে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন প্যাট কামিন্সকে।

অস্ট্রেলিয়ার পেস ঝড়ে শুরুতেই এলোমেলো বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত দলের একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন নাঈম। ব্যাটারদের ব্যর্থতার বিশ্বকাপে তিনি অন্তত কয়েকটি ভালো ইনিংস উপহার দিয়েছেন। যদিও আজ পারেননি। বরং অহেতুক শট খেলতে গিয়ে উইকেট ছেড়ে এসেছেন। পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ১৭ রান করে ধরা পড়েন কামিন্সের হাতে। ১৬ বলের ইনিংসটি সাজান ৩ বাউন্ডারিতে।

শূন্যের খেলায় আফিফ

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোন ব্যাটার ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারেন? কুড়ি ওভারের বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার আগে এই প্রশ্ন করা হলে আফিফ হোসেনের নাম এসেছে নিশ্চিতভাবে। আসার কথাও। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তার ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। কিন্তু বিশ্বকাপে গিয়ে উল্টো চিত্র। শেষ দুই ম্যাচে তো অবস্থা আরও খারাপ। যেন ‘শূন্যের খেলা’য় মেতে আছেন আফিফ!

তা নয়তো কী, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ম্যাচে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। মুখোমুখি প্রথম বলেই ফিরেছেন খালি হাতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নেমেছে শেষ ম্যাচে। সেখানেও ভাগ্য বদলালো না আফিফের। আবারও শূন্য রানে বিদায়। এবার খেলেছেন অবশ্য ৪ বল। অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে খেই হারিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন অ্যারন ফিঞ্চের হাতে। টানা দু্ই ম্যাচে রানের খাতাই খুলতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটার।