টিকিট চাই, টিকিট...। আপাতত এটাই মিরপুর এলাকার স্লোগান! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করেছে, তাতে থোরাই কেয়ার ক্রিকেট-ভক্তদের। মাঠে বসে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানো চিৎকারে গ্যালারি মুখর করে তুলতে তর সইছে না যেন। কিন্তু সেজন্য টিকিট তো পাওয়া চাই!
শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। সময়ের হিসাবে ৬১৮ দিন পর মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ এসেছে। তাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সমর্থকরা। শুধু ঢাকার দর্শকরাই নয়, সাতক্ষীরা-সিলেট-চট্টগ্রাম-কুষ্টিয়া থেকেও ক্রিকেটপ্রেমীরা জড়ো হয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বুথে। সকাল ১০টা থেকে টিকিট বিক্রয় শুরু হলেও ভোর ৬টা থেকেই লাইনে দাঁড়ানো শুরু টিকিট প্রত্যাশীদের। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশ দর্শক মাঠে খেলা দেখতে পারবেন বলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ!
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বুথে ১২ হাজার টিকিট ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একজন দর্শক সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কিনতে পারবেন। ছেলেদের জন্য দুটি লাইন এবং মেয়েদের জন্য একটি লাইন করা হয়। বুথের আশপাশে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকায় টিকিট কিনতে আসা দর্শকদের মাঝে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বেশ কিছু মহিলাকে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে দেখা গেছে। লাইনে এমনও অনেকে দাঁড়িয়েছেন, যারা জানেনও না কীসের লাইন এটি!
জামিলার মতো অনেকে কালোবাজারিতে থাকলেও ক্রিকেটকে ভালোবাসেন এমন অনেক দর্শকই একটি টিকিটের আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ১টাতেও বুথের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেননি রাকিব আহমেদ নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। অনেক দিন পর মিরপুরে গলা ফাটাতে পারবেন সেই আনন্দে তার এই কষ্ট কিছুই না। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমি সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়েছি। কিছুটা এগোলেও এখনও অনেক দূরে আছি। জানি না টিকিট পাবো কিনা। সামনে থেকে হুটহাট লোকজন ঢুকে যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।’
এক দম্পতি তার শিশুকে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছেন। পুলিশের সাহায্য নিয়ে নারীদের লাইন থেকে দুটি টিকিট কিনে বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতলেন যেন। সোহেল নামের এই ব্যবসায়ী বললেন, ‘আমি কোনও সিরিজই মিস করি না। বিয়ের আগে বন্ধুদের নিয়ে ম্যাচ দেখেছি। এবার বউসহ ম্যাচ দেখবো। বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট করবো, এই জন্যই এত কষ্ট করলাম। টিকিট পেয়ে ভালো লাগছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর দর্শকদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত করেছে বিসিবি। এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাই তো একটি টিকিটের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেও আপত্তি নেই!