সাগর পাড়ে অবস্থিত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। আন্তর্জাতিক মর্যাদা বিবেচনা করলে কোনও অংশেই স্টেডিয়ামটি পিছিয়ে নেই। এখানে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামের এই রুগ্ন দশা?
২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ উপলক্ষে এই স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। গ্যালারির এক পাশ দোতলা করে পুরো স্টেডিয়ামে বসানো হয়েছিল প্লাস্টিকের চেয়ার। এখন তার দশা এমন- গ্যালারিতে যে চেয়ারগুলো বসানো হয়েছে, সেখানে কিছু কিছু জায়গা থেকে উধাও হয়ে গেছে সেই চেয়ার। আবার কিছু অংশে একটি চেয়ারও নেই। সেখানে ধাপে ধাপে বসানো সিঁড়িগুলো দেখতে পাওয়া যায়। চেয়ার না থাকায় আবার বের হয়ে আছে লোহার পেরেক। ফলে হাঁটার পাশাপাশি ওখানে বসতে গেলেও যেকোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এক দিক দিয়ে স্বস্তির জায়গা হলো শুক্রবার খুব বেশি দর্শক খেলা দেখার সুযোগ পাবেন না। এক-চতুর্থাংশেরও কম দর্শক খেলা দেখতে পারবেন। সেই উপলক্ষে ৫ হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছে। পূর্ব গ্যালারির ওপরের অংশ, ক্লাব হাউস (পূর্ব), রুফটপ হসপিটালিটি ও মিডিয়া সেন্টারের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ড ছাড়া বাকি সব গ্যালারির গেট বন্ধ থাকবে। এমন বিধিনিষেধের কারণ গ্যালারির জীর্ণ দশাই।
যদিও বিষয়টি স্বীকার করলেন না জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ফজলে বারি খান। ভেন্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা বিসিবির এই কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেছি আমরা। যে কারণে ৫ হাজার দর্শক। পশ্চিম গ্যালারিতে কোনও দর্শক দিচ্ছি না। পূর্ব গ্যালারির ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মালিকানাধীন। মূলত স্টেডিয়ামের সংস্কারসহ যাবতীয় কাজ তারাই তদারকি করেন। কিন্তু স্টেডিয়ামের এমন বেহাল দশা দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা আসলেও এর দেখভাল করছেন কিনা!