প্রায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় পাকিস্তানের দুই ওপেনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলছিলেন। দৃশ্যপট পাল্টে যায় সাকিব-তাইজুল বোলিংয়ে এলে। তাইজুল একাই ভেঙেছেন সফরকারীদের প্রতিরোধ। তাতে প্রথম সেশনে দুই উইকেট তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। আবার রিভিউও নষ্ট হয়েছে দুটি।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩১ ওভারে ২ উইকেটে ৭৮ রান। ক্রিজে আছেন বাবর আজম (৮) ও আজহার আলী (৬)।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বৃষ্টি হানা দিতে পারে যে কোনও সময়। এমন কন্ডিশনে পাকিস্তান ব্যাট করছে টস জিতে। মিরপুরে শুরুর দিকে পেসাররা সহায়তা পেয়ে থাকেন। হয়েছেও তাই। মেঘলা আবহাওয়ায় শুরুর ওভারে সুইং আর বাউন্সে দুই ওপেনারকে নড়বড়ে করার চেষ্টা করেছেন এবাদত। ভেতরে ঢুকে পড়া চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের আবেদনও উঠে। কিন্তু লেগ স্টাম্প মিস করবে দেখে রিভিউ নেননি মুমিনুল।
লেগ বিফোরের আবেদন উঠেছিল এবাদতের তৃতীয় ওভারেও। কিন্তু কোনও সম্ভাবনা না থাকায় রিভিউ নিতে আগ্রহী হননি মুমিনুল।
সুস্থ হয়ে ফেরা সাকিব বল করতে আসেন দশম ওভারে। ঘূর্ণিতে দুই ওপেনারকে কিছুটা ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার পরেও সতর্ক থেকে হাফসেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়েন দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় স্থায়ী এই জুটি ভাঙে তাইজুলের কল্যাণে।
১৯তম ওভারে প্রত্যাশিত টার্ন ভেবে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন শফিক। কিন্তু বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। শফিক বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ২৫ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৯ রানের জুটি। ঘূর্ণি বলে আবিদ আলীকেও বোল্ড করেন তাইজুল। ৩৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ওপেনার অলসভঙ্গিতে কাট করতে গিয়েছিলেন। কানায় লেগে বল আঘাত হানে স্টাম্পে।
২১তম ওভারেও তাইজুলের বলে ক্যাচের আবেদন উঠে আজহার আলীর। অনফিল্ড আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি শুরুতে। রিভিউ নিলে আলট্রাএজে কিছুটা স্পাইক দেখা গেলেও তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না টিভি আম্পায়ার। ফলাফল নট আউট সিদ্ধান্তই বহাল থেকেছে পরে। বাংলাদেশ ১৬তম ওভারেও রিভিউ নিয়েছিল। সাকিবের বলে লেগবিফোরের আবেদন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে সেই রিভিউ। লাঞ্চ বিরতির আগে অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক বাবর আজম ও আজহার আলী।