উইল ইয়াং ফেরার পর মাঠে নেমেছিলেন রস টেলর। এই সিরিজ দিয়েই যার টেস্ট আঙিনাকে বিদায় জানানোর কথা। বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট শুরুর আগেই ঘোষণা দেয়, রস টেলরকে শেষটা রাঙাতে দিতে চায় না তারা। খেলতে নেমে সেই কথার প্রমাণও রাখলো মুমিনুলের দল। অভিজ্ঞ ব্যাটারকে ফিরতে হয়েছে ৩১ রানেই! তাতে নতুন বছরের প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ১৯৫ রান।
উইল ইয়াং ফেরার পর মাঠে নামেন টেলর। মনে হচ্ছিল টেলর-কনওয়ে জুটি পোক্ত হওয়ার পথে। ৫০ রানও যোগ করে ফেলেছিল। কিন্তু শরিফুলের দুর্দান্ত এক বলে টেলরের ক্যাচ উঠলে কভারে সেটি লুফে নেন সাদমান। কনওয়ে অবশ্য বছরের প্রথম সেঞ্চুরি তুলেই ব্যাট করছেন। ক্রিজে আছেন ১০২ রানে। সঙ্গে আছেন হেনরি নিকোলস (৫)।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। টস জিতে মুমিনুল হকের বোলিং নেওয়ার যথার্থতা ফুটে উঠে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই। টম ল্যাথামকে ফিরিয়ে আনন্দের মুহূর্ত এনে দেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম সেশনে ওই একটিই সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১ উইকেট। তাও সেটি এসেছে রান আউট থেকে।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্টে শুরুতে টস জিতে বোলিং নেয় বাংলাদেশ। নতুন বছরে উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়নি। শরিফুলের হাত ধরে আসে প্রথম উইকেট। এই পেসারের বলে ২০২২ সালের প্রথম দিনে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে খেলতে নামা সফরকারীরা চতুর্থ ওভারেই উইকেট উদযাপন করেছে।
কেন উইলিয়ামসনের চোটে অধিনায়কের দায়িত্ব উঠেছে ল্যাথামের কাঁধে। তাই চাপটা হয়তো নিতে পারলেন না এই ওপেনার। শরিফুলের বলে শুরুতেই ঘায়েল হয়েছেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে গেলে ঝাঁপিয়ে এক হাতে দেখার মতো এক ক্যাচ নিয়েছেন উইকেটকিপার লিটন। ফেরার আগে ল্যাথাম করেন মাত্র ১ রান।
স্বাগতিকদের চেপে ধরার ভালো সুযোগ তৈরি হয়ে যায় তাতে। তাসকিন আহমেদ-এবাদত হোসেন-শরিফুলদের সামনে কঠিন পরীক্ষাতেও পড়েন কিউই দুই ব্যাটার কনওয়ে ও ইয়াং। মুখোমুখি ১৩তম বলে গিয়ে প্রথম রানের দেখা পান কনওয়ে। আর ইয়াং রানের খাতা খোলেন ২২তম বলে গিয়ে। ওপেনিংয়ে নেমে এই ব্যাটার প্রথম রান পান ইনিংসের দশম ওভারে!
যদিও ওই কঠিন সময় কাটিয়ে কিউইদের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায় কনওয়ে-ইয়াং জুটি। চলতে থাকে বাংলাদেশের বোলারদের পরীক্ষা। কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছিল না তাদের জুটি। দ্বিতীয় সেশনে অবশেষে রান আউট আশীর্বাদ হয়ে আসে সফরকারীদের জন্য। দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হন ইয়াং। নাজমুল হোসেন শান্তর থ্রোতে লিটন বেল ফেলে দিয়ে ইয়াংয়ের আউটের সঙ্গে ভাঙে কনওয়ের সঙ্গে তার ১৩৮ রানের জুটি। ফেরার আগে অবশ্য হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন এই ওপেনার। ১৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৫২ রান।