টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩২ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সময়-ক্ষণ আলাদা হলেও সব ম্যাচে একই পরিণতি! হতাশায় মাথা নিচু করে হারের ব্যর্থতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে বারবার। এবারের সফরের প্রথম টেস্ট দিয়ে সেই আক্ষেপ-হতাশা দূর করার দুর্দান্ত সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। নিউজিল্যান্ডে প্রথম কোনও ম্যাচ জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে মাত্র ৪০ রান।
মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে দিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের সামনে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৬৯ রানে অলআউট করেছে সফরকারীরা। ফলে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য ঠিক হয়েছে ৪০ রানের।
আগের দিন শেষ বিকালে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দিয়েছিলেন এবাদত। আজ (বুধবার) মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের শেষ দিনের শুরুতেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখলেন ডানহাতি পেসার। দিনের শুরুতেই বোল্ড করে ফেরালেন অভিজ্ঞ রস টেলরকে। এখানেই থামলেন না। খানিক পর ফেরান কাইল জেমিসনকে। এরপর শুরু তাসকিন আহমেদের দাপট।
স্বপ্নের মতো এক টেস্ট কাটছে বাংলাদেশের। যে নিউজিল্যান্ডে কেবল হতাশার ছবি ফুটে উঠেছে, সেখানে স্বাগতিকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে খেলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এই পথচলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবাদত। আগের দিনের ৪ উইকেট নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করে দ্বিতীয় বলেই ৫ উইকেট পূরণ করেন এই পেসার। অভিজ্ঞ টেলরকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের দেখা পান তিনি। যা ২০০৩ সালের পর প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে এই অর্জনের খাতায় নাম তোলেন এবাদত। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা টেলর ১০৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ৪০ রান।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে এবাদতের ম্যাজিক শেষ হচ্ছিল না। আবারও বাংলাদেশকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তিনি। এবার তার শিকার জেমিসন। মিড উইকেটে শরিফুল ইসলামের হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে রানের খাতা খুলতে পারেননি কিউই পেসার।
এবাদত একের পর এক উইকেট নিচ্ছেন, তাসকিনও যোগ দিলেন সেই উৎসবে। টেলরের সঙ্গে পঞ্চম দিন শুরু করা রাচিন রবীন্দ্রকে তুলে নিলেন তিনি। চমৎকার ডেলিভারিতে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ বানান কিউই ব্যাটারকে। ফেরার আগে ৪৯ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৬ রান করেছেন তিনি।
তাসকিনের উইকেটের ক্ষুধা কমেনি। খানিক পর তুলে নেন টিম সাউদির উইকেট। ক্লিন বোল্ড করে কিউই ব্যাটারকে রানের খাতা খুলতে দেননি বাংলাদেশি পেসার। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ শেষটা মুড়ে দেন ট্রেন্ট বোল্টকে (৮) বদলি ফিল্ডার তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ বানিয়ে।
বল হাতে দুর্দান্ত এবাদত ২১ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন ১৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। আর মিরাজ ২২.৪ ওভারে ৪৩ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট।