রাতে ঘুমাতে পারেননি মুমিনুল

প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন ১৭ রানের লিড নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের হাতে ছিল ৫ উইকেট। বুধবার দেখার ছিল তারা কতদূর এই লিড বাড়িয়ে নিতে পারে। তার পরেও ভালো অবস্থানে থেকেই চতুর্থদিন ড্রেসিংরুমে ফিরেছিল মুমিনুলরা। কিন্তু পঞ্চম দিনে কী হয়, এই টেনশনে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন তিনি।

বহুবার জয়ের কাছে গিয়েও জয় বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। মুলতান টেস্টে পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। আবার গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিষিক্ত ক্রিকেটার কাইল মেয়ার্সও একই কাজ করে দেখান ডাবল সেঞ্চুরিতে। মঙ্গলবার তাই নেতিবাচক ভাবনা গ্রাস করেছিল মুমিনুলকে। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আমি গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ঘুমাতে পারিনি আজ কী হবে ভেবে। এই টেস্ট জেতা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের ঐতিহ্যের জন্যও এই টেস্ট জেতা দরকার ছিল। গত দুই বছর আমরা ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলিনি। দলের সবাই টেস্ট খেলায় উন্নতি করতে চাচ্ছিল। এটা দলীয় পারফরম্যান্সের ফলাফল।’

সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান মুমিনুল। কিন্তু শুরু থেকেই পুরো শক্তির দল নিয়ে খেলতে পারেননি। অধিনায়ক হিসেবে ১২ ম্যাচ নেতৃত্ব দেওয়া মুমিনুল এখন অব্দি পুরো শক্তির দল পাননি। কেউ না কেউ কোনও না কোনও কারণে বাদ পড়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সফরেও তামিম-সাকিব ছিলেন না। তবুও অনভিজ্ঞ একটি দল নিয়ে মুমিনুল কিউইদের বিপক্ষে যেভাবে জিতলেন, তাতে করে অভিন্দনের জোয়ারে ভাসতেই পারেন। আর এই মুহূর্তটির জন্য যে কত অপেক্ষা, কত শ্রম- সেটি মুমিনুলের চেয়ে আর কারও বেশি বোঝার কথা নয়। এই কারণে বাংলাদেশ অধিনায়ক জয়ের পর তো উচ্ছ্বাসের ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন, ‘আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না কী অনুভূতি হচ্ছে। এটা এক কথায় অবিশ্বাস্য।’

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ তার পর ৪৫৮ স্কোর করে লিড দেয় ১৩০ রানের। কিন্তু কিউইরা দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রান। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে সেটি টপকে যায় বাংলাদেশ। এমন জয়ের পেছনে মুমিনুল অবশ্য কৃতিত্বটা বেশি দিলেন বোলারদের, ‘আমরা তিন বিভাগেই খুবই ভালো করেছি। বিশেষ করে বোলাররা, প্রথম ইনিংসে ওরা উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো করেছে। ব্যাটসম্যানরাও খুবই ভালো খেলেছে।’

এবাদতকে নিয়ে মুমিনুল আলাদা করে বললেন, ‘গত দুই-তিন বছর এবাদত অনেক পরিশ্রম করেছে। সে বিমান বাহিনী থেকে এসেছে। একজন ভলিবল প্লেয়ার। এক কথায় সে অবিশ্বাস্য বোলিং করেছে। আমাদের কোচিং স্টাফ তার সঙ্গে অনেক কাজ করেছে ঠিক জায়গায় বল করার ক্ষেত্রে। তার স্পেলটা ছিল অবিশ্বাস্য। দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে এমন কিছুই প্রত্যাশিত ছিল।’