বড় ভাইদের দেখতেন বিশাল বিশাল ছক্কা মারতে। কিন্ত নিজে ব্যাটিংয়ে নেমে ছক্কা মারতে পারতেন না আরিফুল ইসলাম। সেই আক্ষেপ থেকেই ব্যাটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু তার। যে স্বপ্ন বুকে লালন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে দেশে ফেরার বিমান ধরেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বিশ্বকাপ অভিযানে বাংলাদেশ অষ্টম হলেও প্রাপ্তিতে আছে আরিফুলের দুটি সেঞ্চুরি। কঠোর পরিশ্রমে ব্যক্তিগত সাফল্য পাওয়ার আনন্দ থাকলেও দলের ব্যর্থতায় তিনি ব্যথিত। সেই সব নিয়েই মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন আরিফুল।
বাংলা ট্রিবিউন: অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ব্যর্থতার কারণ কী মনে হচ্ছে?
আরিফুল ইসলাম: আল্লাহর রহমতে আমাদের দলটা খুব ভালো ছিল। যে কারণে প্রত্যেকেই আশা করেছিলাম আমরা অনেক দূর যাবো। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা সব হারিয়ে ফেলি! ম্যাচ জিততে ভাগ্যও লাগে। সবকিছু ফেভারে না থাকলে ম্যাচ জেতা যায় না। দল হয়ে খেলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। প্রথম কারণ হিসেবে আমি এটাই বলবো। দ্বিতীয় কারণ বলবো কোথাও আমরা ভাগ্যের সহায়তা পাইনি।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও সেঞ্চুরি। ব্যক্তিগত এই সাফল্য কতটা উপভোগ করছেন?
আরিফুল: দলের সবার ভালো একটা প্রস্তুতি ছিল। আমার নিজেরও ভালো প্রস্তুতি ছিল। এক-দেড়টা বছর অনেক পরিশ্রম করেছি। আমাকে মানসিকভাবে সবাই খুব সাহায্য করেছে। যা যা প্রয়োজন ছিল, সব পেয়েছি। অনেক ম্যাচে দলের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে এই পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকরে বলেছিলাম, ভালো কিছু স্মৃতি নিয়ে যেতে চাই। হয়তো দলের জন্য কিছু করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সবার চেষ্টা ছিল। সেই চেষ্টা থেকে আমি দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছি। এমন অর্জন আমার কাছে সবসময়ই স্পেশাল।
আরিফুল: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভালো করতে পারিনি। পরের দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাইনি। ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উইকেটটা ফেভার করেনি। শেষ মুহূর্তে ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করে যাবো। আল্লাহর রহমতে করতে পেরেছি। চেষ্টা করলে সব কিছু হয়। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছে দুটি সেঞ্চুরি করতে পেরেছি। নিজের পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হয়েছে। কিছু না করে দেশে ফিরলে নিজেকে ব্যর্থ মনে হতো। তারপরও দল জিতলে এই সেঞ্চুরি দুটোর মাহাত্ম্য হতো অন্যরকম।
বাংলা ট্রিবিউন: পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর সতীর্থ-কোচদের অভিনন্দন কেমন ছিল?
আরিফুল: পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটা আমার ক্যারিয়ারের প্রথম। ওই ম্যাচে আমরা কেউই রান করতে পারছিলাম না। ওই জায়গা থেকে এমন একটি সেঞ্চুরি পাওয়ার পর দলের সবাই আমার প্রাপ্তিতে ভীষণ খুশি হয়েছে। সবাই নিজেদের পারফরম্যান্স ভুলে আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। বাহবা দিয়েছে। কোচদের মুখে দিনশেষে একটু হলেও হাসি ফোটাতে পেরে ভালো লেগেছে।
বাংলা ট্রিবিউন: দুটি সেঞ্চুরির মধ্যে আপনার কাছে কোনটি স্পেশাল?
আরিফুল: আমার কাছে মনে হয়, প্রথমটা স্পেশাল। কারণ পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ অনেক বেশি ভালো ছিল। সবচেয়ে বড় কথা পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি আমার ক্যারিয়ারের প্রথম। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এমন একটি ইনিংস আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।
বাংলা ট্রিবিউন: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আপনার সেঞ্চুরিতে ২৯৩ রান করেও জিততে না পারাটা নিশ্চয় পীড়া দিয়েছে?
আরিফুল: আমাদের বোলিং আক্রমণ ভালো। তারপরও এত রান করার পর জিততে না পারাটা সত্যিই হতাশাজনক। ক্রিকেটে কখন কী হয়ে যায়, বলা খুব কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবাই অনেক ভালো ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং করেছে। তাও আমরা ম্যাচটা হেরেছি। দুটো সেঞ্চুরি করেছি, কিন্তু একটি ম্যাচও জেতাতে পারেনি। এটা চিরকালীন আক্ষেপ হয়ে থাকবে।
আরিফুল: ব্রেভিস অনেক ভালো ব্যাটার। ওর হাতে অনেক শক্তি আছে। সব দিকে শটস খেলতে পারদর্শী। ওর ইনিংসটা খুব কাছ থেকে দেখতে পেরেছি, অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। ওকে ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে তুলনা করা হয় কারণ ও (ব্রেভিস) ওইরকম ব্যাটিংই করে। ইনিংসটা দেখে খুব ভালো লেগেছে। ও একাই তো ম্যাচটা জিতিয়েছে। ওর ব্যাটিং দেখাটাও বেশ আনন্দের।
বাংলা ট্রিবিউন: দুই ম্যাচে ২১৫ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আপনি ১১ নম্বরে। একটু কি আক্ষেপ হয় না আরও কিছু রান করলে ওপরে থাকতো আপনার নাম?
আরিফুল: আমি ব্যাটিং করেছি চার ইনিংস। বাকিরা ছয়-সাত ইনিংস করে ব্যাটিং করেছে। ওই জায়গাতে পিছিয়ে গেছি। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারিনি। ভারতের বিপক্ষে উইকেটটা ভালো ছিল না। আগেই দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও শেষ দুটোতে চেষ্টা করেছি, আলহামদুল্লিলাহ হয়েছে। আক্ষেপ আসলে ওইরকম হয় না। যতটুকু ছিল ভাগ্যে, ততটুকু পেয়েছি।
বাংলা ট্রিবিউন: পরিবারের সঙ্গে নিশ্চয়ই কথা হয়েছে। তারা কতটা খুশি?
আরিফুল: বাবা-মা অনেক খুশি। আমিও খুশি, তাদের জন্য কিছু করতে পেরেছি। এলাকার সবাইও অনেক খুশি।