বিপিএলে অসাধারণ ব্যাটিং-বোলিংয়ে ছন্দে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। দলকে জিতিয়ে টানা ৫ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও জিতেছেন। বিশ্বরেকর্ড গড়া এমন কীর্তির পরও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামে তাকে কিনতে আগ্রহ দেখায়নি কেউ। দুই দিনই সাকিবের ব্যাপারে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনীহা দেখা গেছে।
অথচ এবার আইপিএলে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়ের চাহিদা বাড়ার কথা! তারপরও সাকিবের বেলায় এমনটা হলো কেন? অনেকের মনেই দেখা দিয়েছে এই প্রশ্ন। যার ব্যাখ্যা খোঁজার জন্য সাম্প্রতিক কিছু বিষয় উত্থাপন করা যেতে পারে। আইপিএল খেলার জন্য সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবেন না বলে আগেই বিসিবিকে জানিয়ে রেখেছিলেন। তবে টেস্ট সিরিজ মিস করলেও ওয়ানডে সিরিজ ঠিকই খেলতে হতো তাকে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ খেলার ব্যাপারেও দায়বদ্ধ তিনি। এই কারণে আইপিএলের পুরো আসরে সাকিবের খেলা নিয়ে একটা সংশয় ছিল। ফলে সাকিবের অবিক্রীত থেকে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এটি।
আইপিএলের সূচি চূড়ান্ত না হলেও জানা গেছে, ২৭ মার্চ থেকে মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা আছে কুড়ি ওভারের জমজমাট এই টুর্নামেন্ট। ওয়ানডে সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হবে ৩১ মার্চ এবং ১২ এপ্রিল। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেললে সাকিব আইপিএলের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই মিস করবেন। অন্যদিকে মে মাসের শেষ দিকে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা সিরিজ। তখনও আইপিএলের শেষ অংশ চলবে। এমন অবস্থায় হয়তো কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি সাকিবকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি।
এটিই যে মূল কারণ তাও নয়। আইপিএলে সাকিবের পারফরম্যান্স মোটামুটি মানের হলেও সর্বশেষ আসরে কলকাতার হয়ে খুব ভালো সময় কাটেনি। পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক না হওয়ায় একাদশ থেকেও বাদ পড়েছেন। এরপর ম্যাচের পর ম্যাচ বসেই কাটাতে হয়েছিল। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ফের সুযোগ পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। গতবারের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে হয়তো অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি সাকিবের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি।
শুধু তাই নয়, আইপিএলে দলগুলো ব্যাটিং অলরাউন্ডারদের বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সাকিব আইপিএলের ১৪ মৌসুমের নয়টিতে খেলেছেন। মাঝে নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ মৌসুমে খেলা হয়নি। নয় আসরে সাতবারই খেলেছেন কলকাতার হয়ে। কলকাতায় সাকিব বেশিরভাগ সময়ই ছিলেন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। ৪ ওভারের বোলিংয়েই ছিল তার প্রায়োরিটি। ব্যাটিংয়ে প্রায় অবদান রাখলেও সেটি দলের জন্য ঠিক যথেষ্ট বলা যায় না।
তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সিরিজেও সাকিব নিষ্প্রভ ছিলেন। গত বিশ্বকাপে ব্যাটিং-বোলিংয়ে খুব বাজে সময় কাটিয়েছেন। আসন্ন মৌসুমে আইপিএলের দলগুলোর আগ্রহ না থাকার পেছনে এটাও বড় কারণ হতে পারে। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এসব পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন ক্রিকেটারের জন্য।