আরেকটি নারিন ঝড়ের দেখা মিলেছিল। বিপিএলে ফাইনালে তার বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বড় সংগ্রহ পাবে কুমিল্লা। কিন্তু ক্যারিবীয় ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরাতেই বদলে গেলো দৃশ্যপট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফরচুন বরিশালের বোলিংয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে কুমিল্লার ব্যাটিং। তাতে পাওয়ার প্লেতে ৭৩ রান তোলা কুমিল্লা ছুড়ে দিতে পেরেছে ১৫২ রানের লক্ষ্য।
তবে লড়াকু এই সংগ্রহের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে মঈন আলী-আবু হায়দার রনি জুটির। তাদের ৫৩ রানে ভর করেই ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানে করতে পেরেছে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবারের মতো বিপিএলের ট্রফি জিততে বরিশালের প্রয়োজন ১৫২ রান।
শুক্রবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা কুমিল্লা দারুণ সূচনা করেছিল। যার পেছনে বড় অবদান সুনীল নারিনের। তবে তার বিদায়ের পর পর ছন্দপতন ঘটে ব্যাটিংয়ের। ক্যারিবীয় এই ব্যাটার যখন আউট হন, দলের রান ছিল দুই উইকেটে ৬৯। নারিনের বিদায়ে ২৬ রানে তুলতেই কুমিল্লা হারায় আরও ৪ উইকেট! আগের ম্যাচে ১৩ বলের হাফসেঞ্চুরিতে রেকর্ড করা নারিন ফাইনালেও খেলেছেন ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। সাকিবের বলে স্কয়ার লেগে তিন রান নিয়ে ২১ বলে পূরণ করেছেন অর্ধশত। সব মিলিয়ে ২৩ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় টর্নোডো ইনিংস খেলে রানার বলে নাজমুলের ক্যাচে বিদায় নেন তিনি।
নারিনের আউটের আগে অবশ্য সাকিবের আর্ম বলে লাইন মিস করে বোল্ড হন লিটন (৪)। এরপর থিতু হওয়ার আগেই ব্রাভোর দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয় (৮)। ১০ রানের ব্যবধানে মুজিবকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন প্রোটিয়া ব্যাটার ফাফ ডু প্লেসিও (৪)। ফাফকে ফেরালে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বরিশালের কাছে। অধিনায়ক ইমরুলের দায়িত্ব ছিল দলকে উদ্ধার করার। কিন্তু সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ব্রাভোর বাউন্স খেলতে গিয়ে নুরুলকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন নিয়েছেন ১২ রানে।
ইমরুলের বিদায়ের পর বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে ছিলেন কেবল আরিফুল। তিনিও কিছু করতে পারেননি। মুজিবের টার্ন নেওয়া বল সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়েছিলেন। সেই বল উপড়ে দেয় আরিফুলের স্টাম্প। তাতে ৯৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপর্যয়ে পড়ে যায় কুমিল্লা। সপ্তম উইকেটে মঈন ও রনি মিলে ৫৩ রানের জুটি করে লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছেন। শেষ ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন মঈন। ইংলিশ তারকা ৩২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে রনি খেলেছেন ২৭ বলে ১৯ রানের ইনিংস। মঈনের আউটের পর শেষ ৫ বলে আসে দুই রান, তাও অতিরিক্ত খাত থেকে।
বরিশালের বোলারদের মধ্যে শেষ ওভারে ঝলক দেখান শফিকুল। আগের ৩ ওভারে ৩০ রান দেওয়া শফিকুল শেষ ওভারে ১ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে মুজিব উর রহমান ২৭ রানে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া সাকিব, ব্রাভো, রানা একটি করে উইকেট নিয়েছেন।