আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন। ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ২১৬ রান ছুঁয়ে ফেলবে, এমন বাজি ধরার লোকের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেই কাজটিই ঠিক ঠাক মতো করে ফেলেছেন মিরাজ-আফিফ জুটি। তবে এখানে কিছুটা কৃতিত্ব পাওয়ার দাবিদার মুশফিক রহিম। তাদের বিশ্বরেকর্ড গড়া জুটি এবং অবিস্মরণীয় জয়ে মিশে আছে মুশফিকের ‘এমআর ফিফটিন’।
২১৬ সালের লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। ১২তম ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেওয়া আফগানরা তখন উৎসবের অপেক্ষায়। কিন্তু সেখানে জল ঢেলে দিলেন আফিফ-মিরাজ। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটিং যেন আফগানদের হৃদয়ে শিল হয়ে বিঁধেছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আফগান ক্রিকেটারদের মুখের হাসি উধাও! অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে অবলীলায় আফগান বোলারদের খেলেছেন মিরাজ-আফিফ। দুইজন মিলে ১৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জেতান। আফিফ ৯৩ ও মিরাজ ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের এই বীরত্বগাথা ইনিংস তৈরি হয় মুশফিকুর রহিমের ব্যাট দিয়ে।
মুশফিকের ব্যাটের প্রস্তুতকারক ভারতের সারিন স্পোর্টস (এসএস)। ক্রিকেটাররা প্রতি সিরিজের আগেই তাদের স্পন্সরের কাছ থেকে ব্যাট পান। চাহিদা মোতাবেক পেয়ে যান গ্লাভস, প্যাড ও থাই প্যাড। ব্যাটে তার কোড ‘এমআর ফিফটিন’ আলাদা করে স্টিকার দেওয়া থাকে।
আফগানিস্তান সিরিজের আগে মুশফিক এসএস কোম্পানির কয়েকটি ব্যাট পান। সেখান থেকে একটি ব্যাট মিরাজকে উপহার দেন। ব্যাটের গ্রিপ ধরে স্বস্তি অনুভব করায় মিরাজ তার কাছ থেকে আরো একটি ব্যাট চেয়ে নেন। মুশফিকের দুইটি ব্যাট দিয়েই নিয়মিত খেলে আসছিলেন তিনি।
মিরাজ ও আফিফের ব্যাটের স্পন্সর স্টানফোর্ড (এসএফ) । এই সিরিজের আগে তারাও ব্যাট পেয়েছেন স্পন্সরের থেকে। তবে নিজের ব্যাট উঠিয়ে রেখে মিরাজ ও আফিফ খেলেছেন মুশফিকের ব্যাট দিয়ে।
এ প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘হ্যাঁ আফিফকে আমিই ব্যাটটা দিয়েছিলাম। ওইটা দিয়েই ব্যাটিং করেছে। ও গ্রিপ ধরে স্বস্তি পাচ্ছিল। আমার কাছেও একই ব্যাট ছিল। আমাকে মুশফিক ভাই ব্যাটটা গিফট করেছিল। ব্যাটটা ভালো লাগায় তার কাছে আরেকটি ব্যাটও চেয়ে নেই।