‘বাংলাদেশকে খুব ভালোবেসেছিলাম, কিছু মানুষ বিশ্বাস করেনি’

চার বছর বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন জেমি সিডন্স। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরেই তাকে বিদায় জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুঃখজনকভাবে বিদায় নিতে হলেও ‘বাংলাদেশ’ হৃদয় থেকে কখনও মুছে যায়নি। বরং বিসিবির কয়েকজন পরিচালক ও ক্রিকেটারের সঙ্গে নিয়মিত-ই যোগাযোগ ছিল। তবে এক যুগ পর সেই অস্ট্রেলিয়ান কোচ-ই এখন সাকিব-তামিমদের ব্যাটিং কোচ। বাংলাদেশে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার ভালোবাসার কথা।

শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল ওয়ানডে দলের। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় মূল দলের দুই ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান জয় এবং নাজমুল হোসেন শান্তই কেবল অনুশীলন করেছেন। এছাড়া ছিলেন টি-টোয়েন্টি দলের ৪ ক্রিকেটার-মুনিম শাহরিয়ার, মেহেদী হাসান, নাঈম শেখ ও শহিদুল ইসলাম। ঐচ্ছিক অনুশীলনে নামার আগে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাটিং কোচ সিডন্স বলেছেন, ‘আমি কোচিং পেশার জন্য তৈরিই ছিলাম। বাংলাদেশের সঙ্গে সবসময়ই আমার যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগ ছিল বিসিবির কিছু পরিচালক এবং ক্রিকেটারের সঙ্গে। এখানে ব্যাটিং পরামর্শকের একটা পোস্ট তৈরি হয়েছিল এইচপি এবং জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য। তবে এটা পূর্ণকালীন সময়ের জন্য না খণ্ডকালীন এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম না। এটা নিয়ে অবশ্য মাথাব্যাথা নেই। আমি গতবারই বাংলাদেশকে খুব ভালোবেসেছিলাম। কিছু মানুষ সেটা বিশ্বাস করেনি। গতবার তিন বছরের (চার বছর) সময়টা খুব উপভোগ করেছি। আমি সবসময়ই ভাবতাম যে, আরেকটি সুযোগ আসবে। এখন তা এসেছে।’

সিডন্সের প্রথম দায়িত্ব ছিল আফগানিস্তান সিরিজ। অভিজ্ঞ এই কোচ নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এসেই সাফল্য পেয়েছেন। আফগানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ইতোমধ্যে জিতে নিয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। গত কয়েক সপ্তাহে ধরে খুব কাছ থেকে বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখানে ৪-৫ জন ৬ ফুট উচ্চতার পেসার আছে, যারা ১৪০- এর বেশি গতিতে বল করে। এটা আমার কাছে দারুণ রোমাঞ্চের। তোমাদের এখনও পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার আছে, যে কিনা খেললেই পারফর্ম করে। আমি ইতোমধ্যে কিছু তরুণ প্রতিভা দেখেছি দুই ম্যাচে – আফিফ, মিরাজ ও লিটন। তারা কোয়ালিটি, ক্ল্যাসি এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে এমন ক্রিকেটার। ওরা যত বেশি খেলবে, ততই বড় ম্যাচে পারফরমের যোগ্য হয়ে উঠবে। গত দুই ম্যাচ আমাদের জন্য চাপের ছিল। আমাদের জিততেই হতো। তরুণরা সামনে থেকে ম্যাচ জিতিয়েছে, যা দেখতে পারাটা দারুণ। অভিজ্ঞরা যে কোনও সময় পারফর্ম করবে কিন্তু তরুণদের তাদের সাহায্য করতে হবে। এখন বাংলাদেশ দলে এটাই হচ্ছে।’

বাংলাদেশ দলে প্রতিভাবানদের ছড়াছড়িতে সিডন্সের ওপর থেকে চাপ অনেকখানিই কমে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে ৫৭ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন, ‘যে প্রতিভা দেখছি, তাতে আমার ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে গেছে। বড় ম্যাচে পারফরম করার মতো যোগ্যতা এদের আছে। লিটন টেস্টে সেই কাজ করে দেখিয়েছে। লিটনকে নিয়ে কাজ করার মতো খুব কম বিষয় আছে। প্রতি বোলারের বিপক্ষে যেন ভালো করতে পারে, এই জন্য কিছু কাজ করতে হবে। ওকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা আমার চ্যালেঞ্জ। তামিম এবং বাকিরা সেরা পর্যায়ে উঠেছে, এখন আমরা চাই তরুণরা যেন ওদেরও ছাড়িয়ে যায়।’