ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে শুক্রবার ৫২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। তার অকাল প্রস্থানে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দেখা গেছে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা শোক প্রকাশ করছেন। আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান তো শোকে পাথর হয়ে গেছেন। শুরুতে রশিদের প্রিয় ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি-অনিল কুম্বলে হলেও সময় যত গড়িয়েছে ওয়ার্নের সঙ্গে তার সখ্যতা তত বেড়েছে।
আজ (শনিবার) মিরপুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর টিভি প্রোডাকশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ার্নকে নিয়ে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেছিলেন রশিদ। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য সেটি তুলে ধরা হলো-
‘নিশ্চিতভাবে এটা এমন এক সত্য যা মেনে নেওয়া কঠিন। শুধু আমি না গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ। খুব দ্রুত তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে দিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে, আপনি যদি লেগ স্পিনার হয়ে থাকেন শেন ওয়ার্ন অবশ্যই আপনার জন্য অনুপ্রেরণার। শব্দ দিয়ে আমি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারবো না। তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের জন্য সমবেদনা। এই শোক বহন করার শক্তি দান করুক।’
‘এটা প্রমাণ করে যে, জীবন কতটা অনিশ্চিত। আপনি কখনোই জানবেন না কখন আপনার সময় চলে আসবে। আপনার সময় আসলে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। আমি মনে করি, নিজেদের প্রত্যেকের আজকের অবস্থানের জন্য আমাদের খুশি থাকা উচিত। নিশ্চিতভাবেই এটা ক্রিকেটের ক্ষতি। ক্রিকেটারদের জন্যও এটা বিরাট ক্ষতি।’
‘আমার জন্য বিশাল সম্মানের বিষয় যে, এমসিজিতে আমি তার সঙ্গে বোলিং করেছি। আমরা সেদিন লেগ স্পিন নিয়ে কথা বলেছি। আমি লম্বা ফরম্যাটে কীভাবে বল করবো তা নিয়ে ওয়ার্নের সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। উনি সবসময়ই আমাকে সাহায্য করার জন্য রাজি ছিলেন। যখনই বিগ ব্যাশে খেলতে যেতাম তার সঙ্গে কথা বলেছি। এ বছরও আমি লম্বা ফরম্যাটে বোলিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
‘তার প্রস্থান সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার এখনও ওই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। যখনই তার চলে যাওয়ার খবরটা শুনলাম, আমার স্মৃতিতে এমসিজি চলে এসেছিল। কতটা ভালো এবং বন্ধুসুলভভাবে তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন! তার ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছিলেন। তার মৃত্যু ক্রিকেটের জন্য বিশাল ক্ষতি।’
‘আজ ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়াটা খুব কঠিন ছিল। আমি বুঝছিলাম না কীভাবে নিজের খেলাটা খেলবো। পুরো রাত ওয়ার্ন আমার মাথায় ছিলেন। এমনকি আমি সকালে উঠেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কয়েকবার ফোন চেক করেছি যে কাল সত্যিই কি এমন কিছু হয়েছিল!