যে কারণে সেঞ্চুরিয়নে জয়ের  ফুল ফোটাতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যান মোটেও সুখকর নয়। দলটির বিপক্ষে চারটি ম্যাচ জয়ের ইতিহাস থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই সংখ্যা শূন্য। ৯ ওয়ানডে খেলে সবকটিই হেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শুক্রবার আরও একবার কঠিন কন্ডিশনে তাদের মুখোমুখি হচ্ছে। সর্বশেষ লড়াইয়ে আড়াই বছর আগে বিশ্বকাপ ময়দানে শেষ হাসি হাসা বাংলাদেশ ওই ম্যাচ থেকেই এখন প্রেরণা নিতে চাইছে। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল তো বলেই দিয়েছেন, ইংলিশ কন্ডিশনে তাদের হারাতে পারলে সেঞ্চুরিয়নে কেন নয়?

দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগে ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে খেললেও সেঞ্চুরিয়নে কখনোই খেলা হয়নি সাকিব-তামিমদের। তবু এই চ্যালেঞ্জ জিততে মরিয়া তামিমরা। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলে গেছেন, ‘এখানে (সেঞ্চুরিয়নে) আমাদের ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি, এখানে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবে। যদি পরিসংখ্যান দেখেন, এটা এমন একটি মাঠ যেখানে অনেক রান হয়, সেটা মাঠের আকৃতি কিংবা গতিময় আউটফিল্ডের জন্য। তবে পরিসংখ্যান যতই দেখি না কেন, আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। কোনও সন্দেহ নেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হতে চাইবে। ওই জিনিসটা আমাদের ভালো করে সামাল দিতে হবে।’

এখন ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যই উজ্জীবিত করছে তামিমকে, ‘সর্বশেষ বিশ্বকাপে আমরা ওদের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। তাই এখানেও ভালো না খেলার কোনও কারণ দেখি না। যত কিছু বলি না কেন, কাল (শুক্রবার) শুরুটা কীভাবে করছি সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর দেখা যাবে আমরা কীভাবে এগিয়ে যাই।’

তাই মাঠে নামার আগে সতীর্থদের সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র দিয়েছেন তামিম, ‘এখানে আমাদের কাজ নিয়ে মনোযোগী। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবসময়ই কঠিন সফর হয় আমাদের জন্য। এবার আমাদের সেই জিনিসটার পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য সাহস নিয়ে খেলতে হবে এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। অনুপ্রেরণার কথা যেটা বললেন, আপনি যখন দেশের জার্সি পরে মাঠে নামেন, তার থেকে বড় কিছু আর থাকে না। মানসিকভাবে যতটা প্রস্তুত থাকা যাবে লড়াইয়ের জন্য সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ছাড়াও পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড যোগ দিয়েছেন। এছাড়া সদ্যই কিছু দিনের জন্য পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার অ্যালবি মরকেলও। তিন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব ধারনা নিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তামিম জানালেন, ‘আমাদের সঙ্গে ডোনাল্ড নতুন যুক্ত হয়েছে। দুই দিন হলো মরকেলও অনুশীলনে আছেন। যতটুকু পারি ওদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

কী সেই তথ্য সেটাও পরিষ্কার করলেন ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘উইকেট, মাঠ, আগে ব্যাটিং নাকি রান তাড়া ভালো এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। যতটুকু পারছি অবশ্যই তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। ওরাও খুব হেল্পফুল। কিন্তু দিনশেষে মাঠের পারফরম্যান্স নিজেদের ওপরই নির্ভর করে। এখন পর্যন্ত অনেক তথ্য পেয়েছি, তবে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে জয় করতে বেশ কিছু অনুশীলন সেশন করেছেন তামিম-সাকিবরা। ওইসব অনুশীলন সেশনে নিজেদের প্রস্তুতিটা ঠিকভাবে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন বলে জানালেন তামিম, ‘এখানে আসার পর আমরা তিন-চারটা অনুশীলন সেশন করেছি। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

দুটি ম্যাচ সেঞ্চুরিয়নে হলেও বাংলাদেশ দল একটি ম্যাচ খেলবে ওয়ান্ডারার্সে। সেখানে সেন্টার উইকেটে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটিকে দারুণ সুবিধা হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক তামিম, ‘আমরা সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করতে পেরেছি। আমরা দ্বিতীয় ম্যাচ ওয়ান্ডারার্সে খেলবো, সেখানে সেন্টার উইকেটে একটা অনুশীলন সেশন করেছি। যতটুকু পারছি, এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’