কাইল মেয়ার্সকে মনে আছে? ২০২১ সালে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে হার দেখেছিল তো এই অভিষিক্ত ব্যাটারের বীরত্বেই। চতুর্থ ইনিংসে ২১০ রানে অপরাজিত থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন। সেই কাইল মেয়ার্স আবারও আলোচনায়। তবে এবার ব্যাটিং নয় দেখালেন বোলিং নৈপুণ্য। তৃতীয় টেস্টে মামুলী মিডিয়াম পেস দিয়ে ইংল্যান্ডকে একরকম ছিটকে দিয়েছেন ম্যাচ থেকে। গ্রেনাডায় তার ৫ উইকেট শিকারে ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১০৩ রান। তৃতীয় দিন শেষে তাদের লিড মাত্র ১০ রানের।
অথচ একটা সময় মনে হচ্ছিল দুই দলই বুঝি সমানে-সমান। ইংল্যান্ডকে ২০৪ রানে গুটিয়ে দিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিল। ৭ উইকেটে স্কোর ছিল ১২৮ রান। সেখান থেকে ক্যারিবীয়দের ঘুরে দাঁড়ানো জশুয়া ডা সিলভার ব্যাটিং বীরত্বে। তৃতীয় দিন ৫৪ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন এই উইকেটকিপার। অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে পরে তুলে নেন প্রথম সেঞ্চুরিও। এদিন কেমার রোচ ও জেইডেন সিলসও অসামান্য অবদান রাখেন তার ব্যাটিংয়ে। সিলসকে ১৩ রানে ফেরাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৩ রানের লিড পেয়ে প্রথম ইনিংসে অলআউট ২৯৭ রানে। জশুয়া অবশ্য ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ২৫৭ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চারের মার।
এর পর কম লিডের বিপরীতে জয়ের আশায় থাকা ইংলিশদের সব স্বপ্নই চূর্ণ করেছেন কাইল মেয়ার্স। প্রথমে জ্যাক ক্রলিকে ১৪ রানে ফেরান সিলস। তার পর জো রুটকে ফিরিয়ে উইকেট উৎসব শুরু মেয়ার্সের। তুলে নেন ড্যান লরেন্স, বেন স্টোকস, অ্যালেক্স লিস ও ক্রেইগ ওভারটনের উইকেট। ইংলিশ ব্যাটিংটাই গুড়িয়ে যায় তার মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে। সর্বোচ্চ স্কোর বলতে ওপেনার হিলসের ৩১ রান আর বেয়ারস্টোর ২২ রান।সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে এখন অলৌকিক কিছুই বাঁচাতে পারে সফরকারীদের। ক্রিজে আছেন ক্রিস ওকস (৯) ও জ্যাক লিচ (১)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (তৃতীয় দিন শেষে)
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে: ৮৯.৪ ওভারে ২০৪ (সাকিব ৪৯, লিচ ৪১*, লিস ৩১; সিলস ৩/৪০, মেয়ার্স ২/১৩, জোসেফ ২/৩৩, রোচ ২/৪১), দ্বিতীয় ইনিংসে: ৫৩ ওভারে ১০৩/৮ (লিস ৩১, ওকস ৯*, লিচ ১*; মেয়ার্স ৫/৯)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে: ১১৬.৩ ওভারে ২৯৭ (জশুয়া ১০০*, ক্যাম্পবেল ৩৫; ওকস ৩/৫৯,সাকিব ২/৪৫, স্টোকস ২/৪৮, ওভারটন ২/৮১)