ডারবানে প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের কাছে ছিল হতাশার। দক্ষিণ আফ্রিকা ছড়ি ঘুরিয়েছে পুরোটা সময়। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ফিরতেই ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রোটিয়াদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিপজ্জনক এলগারকে তো ফিরিয়েছেই। তুলে নিয়েছে মোট ৪টি উইকেট। কিন্তু শেষ বিকালের প্রতিরোধে মাঝের হতাশা কাটিয়ে উঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মুমিনুলের দল। আলোক স্বল্পতায় খেলা হতে পেরেছে ৭৬.৫ ওভার। ৪ উইকেটে প্রোটিয়ারা প্রথম দিন শেষ করেছে ২৩৩ রানে।
অথচ ডারবানের প্রথম সেশনটায় যে আশায় বাংলাদেশ বোলিং নিয়েছিল। তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারেনি। সাইটস্ক্রিন ঝামেলায় ৩৫ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া খেলায় লাঞ্চের আগের সময়টা ছিল শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন দুই ওপেনার ডিন এলগার ও সারেল এরউই। প্রথম সেশনে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ২৫ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৯৫ রান। বিরতির আগে মিরাজের বলে এরউইর ক্যাচ নিতে পারলে পুরো দিনের পরিস্থিতি আরও ভিন্ন হলেও হতে পারতো।
এবাদত কয়েকবার দারুণ লেংথে বল করে প্রোটিয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাফল্য পাননি। পরে খালেদ আহমেদই এনে দেন প্রথম সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনে কয়েক ওভার বোলিং করার পর তাকে রিপ্লেস করা খালেদ আহমেদ ফেরান ডিন এলগারকে। খালেদের বাড়তি বাউন্সের বল হালকা সুইং করেছিল। এলগার তা বুঝতেই পারেননি! ফলাফল বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়েছে লিটন দাসের গ্লাভসে। ১০১ বল খেলা প্রোটিয়া অধিনায়ক ফিরেছেন ৬৭ রান করে। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চারের মার। শুরুর আঘাতে ভাঙে ১১৩ রানের জুটিও।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর সারেল এরউইর দুর্ভাগ্য বলতে হবে। মিরাজের বেশ বাইরের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। ১০২ বলে এরউই করেন ৪১।
হঠাৎ এই ছন্দ পতনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছিলেন প্রোটিয়া দুই ব্যাটার কেগান পিটারসেন ও তেম্বা বাভুমা। থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন দুজনেই। এই সময় দ্রুত রান নেওয়ার তাড়া দেখাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তারা। পয়েন্টে বাভুমা তাসকিনের ঠেলে সিঙ্গেল নিতে গেলে মিরাজের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রানআউট হয়েছেন পিটারসেন। ডিরেক্ট হিটে ১৯ রানে থেমেছে এই ব্যাটারের ইনিংস।
তেম্বা বাভুমা অবশ্য এক প্রান্ত আগলেই খেলছেন। নতুন নামা রিকেলটনকে সঙ্গে নিয়ে ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখা গেলেও সেই জুটি স্থায়ী হয়নি। দারুণ বোলিং করা এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে ভাঙে দুজনের ৩৪ রানের জুটি। তার অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে পুল করতে গিয়েছিলেন অভিষেক করা রিকেলটন। বল টপ এজ হয়ে জমা পড়ে মিড অনে থাকা মুমিনুল হকের হাতে। তাতে ৪১ বলে ২১ রানে শেষ হয় প্রথম টেস্ট খেলতে নামা এই ব্যাটারের ইনিংস।
প্রোটিয়ারা শেষ বিকালে স্থায়ী জুটি গড়তে না পারার অস্বস্তি কাটিয়ে উঠে বাভুমা-ভেরিয়েনের ব্যাটে। এ দুজনের ব্যাটেই রান ছাড়ায় দুইশ। পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন তারা। একপ্রান্ত আগলে বাভুমা তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটি। ক্রিজে আছেন ৫৩ রানে। তার সঙ্গী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন কাইল ভেরিয়েনে (২৭)।
একটি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।