চলতি বছরের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ২২৮ বলে মাহমুদুল হাসানের খেলা ৭৮ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ই কয়েক মাসের ব্যবধানে ডারবানে ইতিহাস গড়লেন। দেশে কিংবা দেশের বাইরে সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার ইতিহাস। ৪৪২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে খেলেন ১৩৭ রানের ইনিংস। যেখানে লাল বলে অভিজ্ঞদের টেম্পারমেন্ট নিয়ে আছে প্রশ্ন, সেখানে পরিণত ক্রিকেট খেলছেন জয়।
জয়ের এমন ইনিংসে মুগ্ধ ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সিডন্স বলেছেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি হয়তো তার (জয়) পক্ষে ছিল। বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে। স্পিনাররা ইনিংসের শুরুতে অনেক বেশি বল করেছে যখন আলো কম ছিল। তবে তার ধৈর্যটা আমার চোখে পড়েছে। আমাদের ব্যাটারদের মধ্যে এই ধৈর্যটা তেমন দেখা যায় না। সবসময়ই আলগা ব্যাটিং দেখা যায়। এই টেস্টে অবশ্য কেউই বাজে শট খেলে আউট হয়নি। খুবই ভালো বোলিং এবং একটা বাজে রান আউট ছিল আমাদের ইনিংসে। খুব ভালো ধৈর্য নিয়ে খেলেছে।’
ইনিংসের পুরো সময় বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছেন জয়। ফিল্ডার ভেতরে নিয়ে এলে ওভার দ্য টপ খেলেছেন, আবার ফিল্ডার বাউন্ডারির রোপে পাঠালে জয় সিঙ্গেলস নিয়ে খেলেছেন। সিডন্স মনে করেন পুরোটা সময় জয় প্রোটিয়াদের ফিল্ডারদের নিয়ে খেলেছেন, ‘জয় ওদের ফিল্ডারদের নিয়ে খেলেছে। সে ওভার দ্য টপে খেলেছে। যখন দক্ষিণ আফ্রিকা ফিল্ডার পেছনে নিয়েছে, তখন সে বল ঠেলে এক রান নিয়েছে। ফিল্ডিং নিয়ে খেলা, ধৈর্য নিয়ে বাজে বলের অপেক্ষা করা এবং নিজের ওপর ছয় ঘণ্টা ব্যাটিং করার বিশ্বাস রাখা, এটাই সব তরুণদের বলেছি।’
সিডন্স এতটাই মুগ্ধ যে জয়ের ইনিংসকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সেরা ইনিংস হিসেবেই ঘোষণা করলেন, ‘আজকের তার (জয়) ইনিংসটা গড়া ধৈর্য আর পরিকল্পনা দিয়ে। বাড়তি কিছু চেষ্টা করেনি সে। যেটুকু জানে, অতটুকুই করার চেষ্টা করেছে। নিজের আওতার বাইরে কোনও উচ্চাভিলাসী শটের চেষ্টা সে করেনি। সে যেভাবে ব্যাট করেছে, আমরা সবাই তাতে গর্বিত। ইনিংসজুড়ে ব্যাট করা বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল কিছু। আমি নিশ্চিত নই, টেস্ট ক্রিকেটে এর চেয়ে ভালো ইনিংস বাংলাদেশের আছে কিনা।’