লম্বা বিরতি দিয়ে টেস্টে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। চোট ও ব্যক্তিগত সমস্যায় ৬ টেস্ট খেলতে পারেননি তিনি। ২০২১ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। এরপর দেশের বাইরে জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার টেস্ট এবং ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট মিস করেছেন। পোর্ট এলিজাবেথে ফিরে উইয়ান মুল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৫৭ বলে খেলেন ৪৭ রানের দারুন এক ইনিংস। সোজা ব্যাটে দারুন খেলছিলেন দেশসেরা ওপেনার। কিন্তু হুট করেই ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন তামিম। ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স মনে করেন চার মেরে ৫০ ছুঁতে গিয়েই এমন ঝুঁকি নিয়েছেন তামিম।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ সংবাদ সম্মেলনে আসেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। তামিমের ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, চার দিয়ে তামিম ৫০ রানে পৌঁছাতে চেয়েছিল। সে ভুলে গিয়েছিল, পুরো ইনিংস কীভাবে খেলেছে। সে সোজা ব্যাটে দারুনভাবে খেলছিল, পা আড়াআড়ি ছিল না। ওর আগ্রাসী ব্যাটিং বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। আমাদের ড্রেসিংরুমও নির্ভার হয়ে উঠেছিল। আমি মনে করি, ৪৭ রান পর্যন্ত তামিম ভালো খেলেছে। তার এবং দলের জন্য খুব ভালো হতো যদি তামিম এটা চালিয়ে যেতে পারতো।’
তামিমের মতো একইভাবে আউট হয়েছেন মুমিনুল ও শান্ত। মুল্ডারের ইনসুইঙ্গারে সাজঘরে ফেরেন তারা। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে পড়ে। দিন শেষ হওয়ার আগে মুমিনুলের দল ৫ উইকেটে ১৩৯ রান করতে পেরেছে। ফলো অন এড়াতে এখনও ১১৫ রানে পিছিয়ে তারা।
তিন ব্যাটারের এমন আউট নিয়ে সিডন্স বলেছেন, ‘দুই জন বল লেগে ঘোরাতে চেয়েছিল। অথচ আমি ওদের বলেছিলাম পা সামনে নিয়ে খেলতে। সত্যি কথা বলতে আমাদের এ নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা একটা মানসিক ও টেকনিক্যাল ভুল, যা সহজেই ঠিক করে নেওয়া যায়। আমাদের এটা খুব দ্রুতই করতে হবে।’
তৃতীয় দিন রান পেতে এবং দলের স্কোরকে বাড়িয়ে নিতে স্পিনারদের বিপক্ষে চওড়া হওয়ার পরমর্শ সিডন্সের, ‘আমাদের স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হতে হবে। আমাদের কিছু ঝুঁকি নিতে হবে। মুশফিক সাধারণত দারুণ সুইপ শট খেলতে পারে। কিছুটা টার্ন এবং বাউন্স আছে, কিন্তু আমরা এখনও সুইপ শটে উইকেট হারাইনি। আমরা অন্য কিছু করতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছি। আপনি রাব্বিকে সুইপ করতে দেখবেন না, কিন্তু দেখবেন মুশফিক সুইপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা তার শক্তির জায়গা। আমি মনে করি, এখানে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও এটাই ঠিক।’