পুরো মাঠ জুড়েই দায়িত্ব পালন করে চললেন ব্যাটিং পরামর্শক জেমি সিডন্স। একবার মুশফিকের কাছে তো আরেকবার তামিমের কাছে। তামিমকে কিছু পরামর্শ দিয়ে ছুটে গেলেন মুমিনুলের কাছে। এই দায়িত্ব শেষ না হতেই ছুটে গেলেন অন্য একজনের কাছে। এভাবেই মাঠের এই প্রান্ত-ওই প্রান্তে দাপিয়ে বেড়ালেন সিডন্স। লক্ষ্য একটাই শিষ্যদের ব্যাটিংয়ের উন্নতি, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠা।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুর থেকে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সিডন্স। তার ব্যস্ততা দেখে বুঝতে বাকি থাকে না বাংলাদেশের ব্যাটাররা তার ওপর কতখানি আস্থাশীল! পুরো সময়টাতে ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে দেখা গেছে সিডন্সকে। ভালো হলে তালি দিয়েছেন, ভুল হলে সামনে গিয়ে আর্দশ শিক্ষকের মতো বুঝিয়ে দিয়েছেন।
শিষ্যদের নিয়ে কাজ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন সিডন্স, ‘এখন পর্যন্ত দারুণ দুটি দিন কেটেছে (অনুশীলনে)। ব্যাটিং নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি, টুকটাক কিছু জায়গা নিয়ে কাজ করেছি। এখনও আলোচনার অনেক কিছু বাকি আছে। আরও তিনটি দিন আছে সামনে অনুশীলনের।’
সর্বশেষ খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। বিশেষ করে ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ভুগিয়েছে দলকে। তাই েতো ব্যাটারদের নিয়েই বাড়তি কাজ হলো বেশি। মঙ্গলবার দুপুরে মিডিয়া বক্সের সামনের নেটে তামিম রিভার্স সুইপ ও স্লগ সুইপে তালিম দিয়েছেন দীর্ঘক্ষণ। পায়ের পজিশন নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথকে নিয়ে কাজ করে গেছেন সিডন্স। তামিমও ছিলেন মনোযোগী ছাত্র। নিজের দুর্বলতা নিয়ে আগ্রহ নিয়েই কাজ করেছেন তামিম। তামিমকে নিয়ে সিডন্স বলেছেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি ক্রিকেটারই শিখতে থাকুক। নতুন পথ খুঁজতে থাকুক। তামিমও সেখানে আলাদা নয়। রান করার নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে। সামনে তিন-চার বছরে ভালো ক্রিকেট খেলার দিকে তাকিয়ে আছে সে।’
শুধু তামিম নয় মুমিনুল-মুশফিককে নিয়েও দীর্ঘক্ষণ কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দহীন মুশফিক ও মুমিনুল। এদিন নিজে বল থ্রো ডাউন করে দুই ব্যাটারের পায়ে নড়াচড়া, বল লিভ, কাট ও কভার ড্রাইভ ঠিক করেছেন। মুমিনুলের ফ্রন্ট ফুট ড্রাইভে সমস্যা হচ্ছিল, সেগুলো নিয়েও কাজ হয়েছে বিস্তর। মুমিনুলকে পরামর্শও দিচ্ছিলেন সিডন্স। দূর থেকে সেটি স্পষ্ট হয়েই শোনা যাচ্ছিল, ‘ব্যাটার হিসেবে তোমার দায়িত্ব প্রত্যেকটা বল খুব ভালোভাবে দেখে তারপর শট খেলা। আগাম কোনও চিন্তা মাথায় না ঢুকিয়ে বল দেখবে আর খেলবে।’
মুমিনুল যেন ভালো ছাত্রের মতোই কথাগুলো শুনলেন! কেননা শেষ ১২ ইনিংসে ১৬৫ রান করা মুমিনুল রানে ফিরতে মরিয়া। যদিও অধিনায়কের উপর আস্থা আছে সিডন্সের। তাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমি ওকে বলেই যাচ্ছি, সে চট্টগ্রামে ৭টি সেঞ্চুরি করেছে এবং এখানে আরেকটি সুযোগ আরও গোটা দুই সেঞ্চুরি করার। এই মাঠ সে ভালোবাসে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে তৈরি করে তুলতে এবং সে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।’
মুশফিককে নিয়েও দীর্ঘক্ষণ কাজ করেছেন সিডন্স। নিজে থ্রো ডাউন করে বল লিভ, কাট ও কভার ড্রাইভ ঠিক করিয়েছেন। পারফেক্ট শট খেললে তালিও দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মুশফিককে নিয়েও চিন্তিত নন সিডন্স, ‘প্রতিটি ব্যাটসম্যানই এই সময়টার ভেতর দিয়ে যায়, যখন রান করে না। গত দুই দিন এখানে (অনুশীলনে) সে যেভাবে খেলছে, আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই সপ্তাহে সে এখানে ম্যাচেও রান করবে। তার ব্যাটিং দেখতে মুখিয়ে আছি আমি। খুব ভালো কিছুর আভাস আমি দেখেছি (মুশফিকের ব্যাটিংয়ে), তার সঙ্গে দুয়েকটি ব্যাপার নিয়ে কাজ করেছি। আমার মনে হয়, সত্যিই সফল একটি সিরিজ কাটাবে সে। ‘
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ব্যর্থতার কাটিয়ে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো করতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সেরাটা দেওয়ার বিকল্প নেই। তামিম-মুশফিক-মুমিনুলরা নিজেদের সেরাটা দিলেই কেবল সাফল্য পাওয়া সম্ভব। এই লক্ষ্যে শিষ্যদের নিয়ে নিবিঢ় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গুরু সিডন্স। হয়তো এই চট্টগ্রামেই রানের বন্যা বইয়ে দেবেন মুশফিক-মুমিনুলরা।