মোস্তাফিজের টেস্ট না খেলা ‘ব্যক্তিগত ব্যাপার’

টেস্ট খেলতে চান না মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের সিদ্ধান্তকে ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ হিসেবেই দেখছেন পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিলেও মোস্তাফিজ আছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের তাঁবুতে। এ নিয়ে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন সমালোচনায় মুখর হলেও পেস বোলিং কোচকে পাশে পাচ্ছেন মোস্তাফিজ।

আজ (বৃহস্পতিবার) অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন ডোনাল্ড। সেখানেই তিনি মোস্তাফিজ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মোস্তাফিজের টেস্ট খেলা নিয়ে কথা বলা কঠিন। তারা একটি পথ বেছে নিতে পারে। ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট বলেছিলেন, ক্রিকেটাররা একসময় ১২ মাস খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল, এখন যেটা ৯ মাস। মোস্তাফিজের ব্যাপারটাও ব্যক্তিগত পছন্দ। আমরা এটা নিয়ে বোধহয় মোস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলতে পারি। এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের উদাহরণ টেনে ডোনান্ড আরও স্পষ্ট করলেন, ‘২০০৯ সালে আন্দ্রে রাসেলকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে দেখলাম। আমি মনে করেছিলাম, সে পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড়। ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতো, ১১০ মিটার ছক্কা হাঁকাতো। তবে তার শরীর টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ছিল না। তাই সে সীমিত ওভারকেই বেছে নিয়েছে। এটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। আমি মনে করি, এটা মোস্তাফিজের পার্সোনাল চয়েজ।’

২০১৫ সালে লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। বাঁহাতি এই পেসার গত ৭ বছরে খেলেছেন মাত্র ১৪ টেস্ট। করোনার সময়টাতে জৈব সুরক্ষা বলয়ের কারণে টেস্ট খেলতে চাইছিলেন না। এখন চাচ্ছেন না ‘ওয়ার্কলোডের কারণে’।

তবে কি ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড বেশি হয়ে যাচ্ছে? ডোনাল্ডের উত্তর, ‘আমি মোস্তাফিজের অনেক বড় ভক্ত। আমি মনে করি, সাদা বলে সে দারুণ এক বোলার। আমার রোমাঞ্চিত হওয়ার একটা কারণ হলো, এখনকার ছেলেরা সঠিক প্রশ্নটা করে, তারা শিখতে চায়। সাদা বলের কথায় যদি আসি, সামনে বিশ্বকাপ আছে, তাই আমাদের আবার একটু লাগাম টানতে হবে। ওয়ার্কলোড নিয়ে আমি চিন্তিত নই। ছেলেরা ওয়ার্কলোড ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছে।’

গত ৭ মে টিম ডিরেক্টর সুজন রাগ উগড়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, মোস্তাফিজ কী খেলবে, কী খেলবে না, সেটি নিয়ন্ত্রণ করবে বোর্ড, ‘মোস্তাফিজ কেন খেলতে চায় না, আমি জানি না। এটা বোর্ডই নির্ধারণ করবে, কাকে কোথায় খেলতে হবে। আপনি কি অফিসে বলতে পারেন- আমি এই কাজ করবো না, ওই কাজ করবো? আপনি এখানে কর্মী, আপনি কীভাবে বেছে নেবেন? সভাপতি বলেছিলেন সিনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যাপারে। সাকিব-তামিমদের বয়স ৩৪-৩৫। তাদের এখন বিরতি প্রয়োজন, তারা এটার যোগ্য। মোস্তাফিজের অবশ্যই টেস্ট খেলা উচিত।’