সাকিব লাঞ্চেই বুঝতে পেরেছিলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে বাংলাদেশ

লঙ্কান দুই ব্যাটার অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুজ ও দিনেশ চান্ডিমাল চতুর্থ দিনের চা বিরতি পর্যন্ত অনায়াসেই ব্যাটিং করেছেন। দ্বিতীয় সেশন পর এবাদত হোসেনের বলে ভাঙে ১৯৯ রানের মহাকাব্যিক এই জুটি। তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন চান্ডিমাল। ততক্ষণে পাক্কা ১০০ রানের লিড নিয়ে ফেলেছে সফরকারীরা।

অবশ্য লাঞ্চ বিরতিতেই সাকিব আল হাসান বুঝে গিয়েছিলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছে স্বাগতিক দল। চতুর্থ দিন শেষে এমনটাই জানালেন সংবাদ সম্মেলনে আসা বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের করা ৩৬৫ রানের জবাবে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪ রানের লিড পায় লঙ্কানরা। চার রানের ওই লিডের পর সাকিব নিশ্চিত হয়ে যান সামনের সময়টা তাদের জন্য কঠিন হবে। তার এই ভাবানার সঙ্গে মিলে যায় শেষ বিকালের দৃশ্যও। লঙ্কানরা ১৪১ রানের লিড নেওয়ার পরই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ দলও ৩৪ রান তুলতেই চার উইকেট হারিয়েছে। নিজের ভাবনা নিয়ে দলের অভিজ্ঞ এই তারকা বলেছেন, ‘যখন লাঞ্চে উইকেট পড়েনি, তখনই বোঝা যাচ্ছিল আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের রানটা টপকে যাবে। দেড়শ দুইশ রানের একটা লিড নেওয়ার অবস্থায় তারা ছিল। যেখানে পঞ্চম দিনে দুইশো ক্রস করে আবার টার্গেট দিতে হতো। এজন্য আমাদের ব্যাটিং করতে হতো তিন থেকে সাড়ে তিন সেশন। আমরা বুঝতে পারছিলাম এরকম একটা পরিস্থিতি হবে। লাঞ্চ পর্যন্ত উইকেট না পড়ায় আমাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়।’

যদিও সাকিব আশা ছাড়ছেন না। মনে করেন, প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন-মুশফিকের মতো কেউ ব্যাটিং করতে পারলে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব, ‘মুশফিক ভাই ও লিটনের মতো যদি কেউ দ্বিতীয় ইনিংসে দুইজন ভালো ব্যাটিং করতে পারে, তাহলে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব।’

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘পরিস্থিতিটা কঠিন। উইকেট অতটা বেশি কঠিন না হলেও দুই বা আড়াই দিন যখন আপনি ফিল্ডিং করবেন ১৬০-১৭০ ওভার। তখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা একটু কঠিন হয়েই যায়। খেলোয়াড়রা হয়তো একটু টায়ার্ড। কারণ দুইটা ম্যাচই পাঁচদিনের শেষ সময় পর্যন্ত যাচ্ছে। এখন যদি কালকে (শুক্রবার) আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারি।’

শুরুতে তামিমকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ দল দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় রান নিতে গিয়ে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওই রান আউটে ভীষণ হতাশ সাকিব, ‘রান আউট যেকোনও পরিস্থিতিতে খারাপ দিক। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে এটি আরও খারাপ দিক। আমাদের জন্য হতাশাজনক অবশ্যই। এই পরিস্থিতিগুলোতে অনেক বেশি ঠাণ্ডা থাকা জরুরি।’