বোলাররা বল করতে এসে বল না ছুঁড়ে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রান আউট করার 'অদ্ভূত নিয়ম'কে মানকড় আউট বলা হয়। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ভারতের ভিনু মানকড় দুবার অস্ট্রেলিয়ার বিল ব্রাউনকে এভাবে আউট করেছিলেন। তার নামে এই আউটের নামকরণ করা হয়।
বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এই মানকড় আউটের কাঁধে চেপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তীরে এসে তরি ডুবে জিম্বাবুয়ের। বিতর্কিত এ ঘটনায় মানকড় আউট আবারও আলোচনায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা খুব পুরনো নয়। ২০১৪ সালে জুনে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ঘটে এমন ঘটনা। ইংলিশ ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে মানকড় আউটের শিকার করেন সচিত্র সেনানায়েকে।
ক্রিকেটের আইনে এটি আউট। তবে এ ধরনের আউট ক্রিকেটীয় খেলোয়াড়সুলভ চেতনার সঙ্গে যায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে তারপরও টেস্ট এবং সীমিত ওভারের খেলা মিলে মোট ৮বার ঘটেছে এমন ঘটনা। এই বিতর্কিত সুবিধা নিয়েছেন কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেলের মতো খেলোয়াড়েরা।
তবে ব্যতিক্রমও আছে। অনেকেই আছেন সুযোগ পেয়েও প্রতিপক্ষকে মানকড় আউটের ফাঁদে না ফেলে উদারতা দেখিয়েছেন। এমন উদারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিকও।
২০০৩ সালের মুলতান টেস্টে জয়ের একেবারে বন্দরে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে হয় বাংলাদেশকে। ওই টেস্টে হয়তো জিতে যেত বাংলাদেশ। মোহাম্মাদ রফিক সুযোগ পেয়েও উমর গুলকে মানকড় আউট না করে সাবধান করে দেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায় ১ উইকেটে!
তবে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটে আছে যে ঘটনা সেটি হলো ১৯৮৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে।
লাহোরে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তান ছিল পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে। খেলার একেবারে অন্তিম বলটিতে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার দুই রান। বল করছিলেন কোর্টনি ওয়ালশ। ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন আবদুল কাদির ও নন স্ট্রাইকিংয়ে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর। বল করার সময় ওয়ালশ দেখেন সেলিম জাফর বেরিয়ে গেছেন অনেকটা দূর। ইচ্ছা করলেই জাফরকে রানআউট করে দিতে পারতেন ওয়ালশ। কিন্তু তা না করে তাকে সতর্ক করে দেন তিনি। জাফরকে নিরাপদে ক্রিজে ফেরত আসার সুযোগও তৈরি করে দেন ওয়ালশ। পরে শেষ বলে দুই রান নিয়ে ম্যাচটি জিতে যায় পাকিস্তান। এই একটি হারেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রিচার্ডস, হেইন্স, গ্রিনিজদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে অনেক কিংবদন্তী এমন আউটের পক্ষেও কথা বলেছেন। যাদের মধ্যে আছেন স্বয়ং স্যার ডন ব্রাডম্যানও। তিনি ১৯৪৭-এর সেই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কও ছিলেন। এমন আউট মানকড়ের সমালোচনা করায় তিনি গণমাধ্যমগুলোর প্রতি নিন্দা জানান।
/এমআর/