রোমাঞ্চের আভাস চতুর্থ দিন শেষেই পাওয়া গিয়েছিল। ট্রেন্ট ব্রিজে আঁকা হয়েছিল নতুন কোনও কীর্তি গড়ার পথ। ঘটলো তা-ই! তবে যেভাবে টেস্ট-রোমাঞ্চের সুধা পান করলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা, সেটি হয়তো ছিল চিন্তার বাইরে। জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে লেখা হলো নতুন ইতিহাস। পাঁচ দিনের ম্যাচ হলেও ট্রেন্ট ব্রিজে ওয়ানডের ছোঁয়া দিলেন এই ব্যাটার। তার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে ইংলিশরা।
আজ (মঙ্গলবার) ট্রেন্ট ব্রিজের দ্বিতীয় টেস্ট ৫ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্ষরিক অর্থেই ওয়ানডে খেলেছে ইংলিশরা। ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে স্বাগিতকরা। যেখানে ৯২ বলে ১৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় স্মরণীয় ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেন বেয়ারস্টো। ট্রেন্ট্র বিজে রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বেন স্টোকসরা। লর্ডসের প্রথম টেস্টও ৫ উইকেটে জিতেছিল ইংলিশরা। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫৫৩ রানের জবাবে ইংল্যান্ড করেছিল ৫৩৯ রান।
পঞ্চম দিনে নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ড লক্ষ্য পায় ২৯৯ রানের। দিনের খেলা তখন বাকি ছিল ৭৪ ওভারের মতো। শেষ দিনে ৩০০ ছুঁই ছুঁই স্কোর তাড়া করা সহজ কথা ছিল না। তাছাড়া শঙ্কার আরেকটি কারণ ট্রেন্ট ব্রিজে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল না। যদিও বেয়ারস্টো সব হিসাব-রেকর্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেললেন।
যদিও ১০০ রানের মধ্যে ইংলিশদের চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিল কিউইরা। ওপেনার জ্যাক ক্রলি রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ওলি পোপ করেন ১৮ রান। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শতক পাওয়া জো রুট ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এর মধ্যে আশা জাগানো অ্যালেক্স লিস ৪৪ রানে বিদায় নিলে বিপদ বাড়ে স্বাগতিকদের।
তবে ওই শেষ, এরপর কেবল বেয়ারস্টোর ম্যাজিক। জয়ের হিসাব ও ওভার বিবেচনায় রেখে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৭৭ বলে পূরণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে যখন ১৩৬ রান করে বিদায় নেন, ততক্ষণে জয় প্রায় নিশ্চিত ইংল্যান্ডের।
তিনি আউট হলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন অধিনায়ক বেয়ারস্টো। বাঁহাতি ব্যাটারও ছিলেন ওয়ানডে মেজাজে। ৭০ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৭৫ রানে। বেন ফকস অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। এমন অবিশ্বাস্য জয়ের পর বেয়ারস্টোর হাতেই মানায় ম্যাচসেরার পুরস্কার।
বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্ট ছিলেন সবচেয়ে। এই পেসার ৯৪ রানে নেন ৩ উইকেট। আর একটি করে উইকেট টিম সাউদি ও ম্যাট হেনরির।
এর আগে নিউজিল্যান্ড পঞ্চম দিন শুরু করেছিল ৭ উইকেটে ২২৪ রানে। আশা জাগিয়ে রাখা ড্যারেল মিচেল একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্ত থেকে উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। মিচেল ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাট হেনরি করেন ১৮ রান। আর ট্রেন্ট বোল্ট ১৭ রান করলে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
স্টুয়ার্ট ব্রড ৭০ রানে নেন ৩ উইকেট। আর ২টি করে উইকেট শিকার জেমস অ্যান্ডারসন ও ম্যাথু পটসের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৫৫৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪.৪ ওভারে ২৮৪ (মিচেল ৬২*, ইয়ং ৫৬, কনওয়ে ৫২, ব্রেসওয়েল ২৫; ব্রড ৩/৭০, অ্যান্ডারসন ২/২০, পটস ২/৩২)।
ইংল্যান্ড: ৫৩৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে (লক্ষ্য ২৯৯) ৫০ ওভারে ২৯৯/৫ (বেয়ারস্টো ১৩৬, স্টোকস ৭৫*, লিস ৪৪, পোপ ১৮, ফকস ১২*; বোল্ট ৩/৯৪)।
ফল: ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ২-০তে এগিয়ে।
ম্যাচসেরা: জনি বেয়ারস্টো।