ক্যারিবীয় গতির কাছে প্রথম সেশনে অসহায় বাংলাদেশ    

সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও লজ্জায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। তার তৃতীয় দফার নেতৃত্বে প্রথম টেস্টের শুরুতেও প্রায় একই অবস্থার সামনে সফরকারী দল। সর্বনিম্ন রানের স্কোরটি পার করা গেছে যদিও। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিময় বোলারদের তোপে লাঞ্চের আগে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে আছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ২৫ ওভারে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৬ রান। সাকিব আল হাসান (২৭) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (২) ধ্বংসস্তূপে থেকেই লড়াইয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন। ৩১ রান যোগ করেছেন তারা। 

অবশ্য এই দুজনেও ফিরে যেতে পারতেন। রান আউট মিস হওয়ায় বেঁচে যান মিরাজ। সাকিব আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাগতিক ফিল্ডার হাতে জমাতে পারেননি।   

সর্বশেষ ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পেসার কেমার রোচ বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। অ্যান্টিগায় স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে এবারও গতির ঝড় তুলেছেন ক্যারিবিয়ান পেসার। সর্বশেষ সফরে এই রোচের গতির কাছেই বাংলাদেশ পরাস্ত হয়েছিল। তার গতিময় বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় নিজেদের রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪৩ রানে। 

শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পেসারদের সহায়তা পাবে, তা অনুমিতই ছিল। প্রথম ওভারে রোচের বাড়তি বাউন্সারে ধোঁকাও খান জয়। বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে বনারের হাতে। তাতে রানের খাতা না খুলেই ফিরেছেন এই তরুণ। তৃতীয় ওভারে রোচের গতিময় প্রথম বলটিতো স্টাম্প উপড়ে দিয়েছে শান্তর। তার বিদায়ে ৩ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের।

নতুন নামা মুমিনুল হক নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েও ভাগ্য বদলাতে পারেননি। জেইডেন সিলসের লাফিয়ে ওঠা বল বুঝতেই পারেননি তিনি। বল ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে তালুবন্দি হয়েছেন। ৬ বল খেলা মুমিনুল ফিরেছেন কোনও রান না করেই।  

৩ উইকেট পড়ে গেলেও তামিম-লিটনকে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল। দুজনে মিলে যোগ করেন ২৫ রান। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে কপাল পুড়ে তামিমের। আলজারি জোসেফের লেগ স্টাম্পের বাইরের নির্বিষ বলটি অযথাই খেলতে গিয়েছিলেন। ফলাফল জশুয়া ডা সিলভার হাতে জমা পড়েন ২৯ রানে। দারুণ ফর্মে থাকা লিটনও ফিরেছেন শট খেলার তাড়নায়। কাইল মেয়ার্সের মিডিয়াম পেসের টাইট লেংথের বলে এগিয়ে এসে ব্যাট চালাতে গিয়ে গ্লাভসবন্দি হন ১২ রানে। 

ওই ওভারে মায়ার্সেরই শিকার হন নতুন নামা নুরুল হাসান সোহান। কোনাকুনি ভেতরে ঢুকে পড়া বল আঘাত করে সোহানের প্যাডে। সঙ্গে সঙ্গে লেগ বিফোরের আবেদন উঠতেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিলে আম্পায়ার্স কলেই সোহানকে সাজঘরে ফিরতে হয় শূন্য রানে। তার বিদায়ে এটাও নিশ্চিত হয়, প্রথম ইনিংসে লাঞ্চের আগেই ধ্বংস্তূপে পরিণত বাংলাদেশ।

২১ রানে দুটি নেন কেমার রোচ। কাইল মেয়ার্সেরও ১০ রানে দুই মেডেনে শিকার দুটি। একটি করে নিয়েছেন জেইডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ।