চার বছর পর অ্যান্টিগায় টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটাররা লজ্জার ইতিহাস মুছে ফেলতে পারলো না কিছুতেই। শেষবার দলীয় সর্বনিম্ন স্কোরে গুটিয়ে যাওয়ার নজির রেখেছিল। এবার টানা দ্বিতীয় টেস্টে ৬ ব্যাটার ডাক মেরে আউট হওয়ার নজির গড়লেন। তাতে প্রথম টেস্টের স্কোরবোর্ডের চেহারাও হয়েছে হতশ্রী। প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে মাত্র ১০৩ রানে।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধৈর্যশীল টেস্ট ব্যাটিং উপহার দিয়ে প্রথম দিনটায় পুরোপুরি কর্তৃত্ব করে মাঠ ছেড়েছে। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৫ রান। ৮ রানে পিছিয়ে যদিও। কিন্তু বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ওভার ব্যয় করে উইকেটে পড়ে থাকার মানসিকতা নিয়েই খেলেছে।
বল হাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুই উইকেট। দারুণ এক বলে ৪৪ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। বোল্ড করেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে। তার পর রেইমন রেইফারকে গ্লাভসবন্দি করে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন পেসার এবাদত।
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৭২ বলে ২৪ রান করা ক্যাম্পবেলের ইনিংসই বলে দেয় এই উইকেটে পড়ে থাকার মানসিকতাই যথেষ্ট। একবার জীবন পাওয়া রেইফার এবাদতের দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন। তিনি ২৬ বল খেলে করেন ১১ রান।ক্রিজে আছেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (৪২) ও এনক্রুমাহ বনার (১২)। অবশ্য এই ব্র্যাথওয়েটকে মোস্তাফিজ শুরুতেই আউট করার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু মুমিনুল ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
তার আগে ক্যারিবীয় বোলিং তোপে ৩২.৫ ওভার স্থায়ী ছিল সফরকারীদের প্রথম ইনিংস। লাঞ্চ বিরতির কিছুক্ষণ পর গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৩ রানে। এ নিয়ে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে ব্যাক টু ব্যাক টেস্টে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার ডাক মারার নজির গড়েছেন। টেস্টে একাধিকবার ৬ ব্যাটারের শূন্য রানে আউটের রেকর্ড নেই।
শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পেসারদের সহায়তা পাবে, তা অনুমিতই ছিল। এবারও পেসার কেমার রোচই কাঁপিয়ে দেন বাংলাদেশকে। অথচ ফিটনেসের কারণে তার খেলারই কথা ছিল না।
প্রথম ওভারে রোচের বাড়তি বাউন্সারে ধোঁকা খান জয়। তাতে রানের খাতা না খুলেই ফিরেছেন এই তরুণ। তৃতীয় ওভারে রোচের গতিময় প্রথম বলটিতো স্টাম্প উপড়ে দিয়েছে শান্তর। তার বিদায়ে ৩ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের।
নতুন নামা মুমিনুল হক নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েও ভাগ্য বদলাতে পারেননি। জেইডেন সিলসের লাফিয়ে ওঠা বলে দ্বিতীয় স্লিপে তালুবন্দি হয়েছেন। ৬ বল খেলা মুমিনুল ফিরেছেন কোনও রান না করেই।
৩ উইকেট পড়ে গেলেও তামিম-লিটনকে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল। দুজনে মিলে যোগ করেন ২৫ রান। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে কপাল পুড়ে তামিমের। আলজারি জোসেফের লেগ স্টাম্পের বাইরের নির্বিষ বলটি অযথাই খেলতে গিয়েছিলেন। ফলাফল জশুয়া ডা সিলভার হাতে জমা পড়েন ২৯ রানে। দারুণ ফর্মে থাকা লিটনও ফিরেছেন শট খেলার তাড়নায়। কাইল মেয়ার্সের মিডিয়াম পেসে গ্লাভসবন্দি হন ১২ রানে।
ওই ওভারে মায়ার্সেরই শিকার হন নতুন নামা নুরুল হাসান সোহান (০)। তার বিদায়ে এটাও নিশ্চিত হয়, প্রথম ইনিংসে লাঞ্চের আগেই ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।
তবে লাঞ্চ বিরতির আগে ৩২ রান যোগ করে লড়াইয়ের আভাস দেন সাকিব-মিরাজ। কিন্তু বিরতির পর এই প্রতিরোধও ক্যারিবীয় দল গুড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারে মিরাজকে সাজঘরে পাঠান জেইডেন সিলস। তামিমের মতো একই রকম ভঙ্গিতে লেগ স্টাম্পের বাইরের বল অযথা খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মিরাজও। তাতে ২২ বল খেলা অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের লড়াই থামে ২ রানে। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সিলসের বলেই।
প্রতিষ্ঠিত শেষ ব্যাটারের ফেরায় সাকিবকে একক দায়িত্বটা কাঁধে নিতে হয় তখন। কিন্তু অপরপ্রান্ত নড়বড়ে হয়ে পড়ায় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। যোগ্য সঙ্গী না থাকায় তখনও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংটা ধরে রাখেন। ধ্বংসস্তূপে তুলে নেন ২৮তম ফিফটিও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নবম। তার ব্যাটিংয়েই স্কোরটা শত রান পার হয়েছে। কিন্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাশুলও তাকে দিতে হয় ৫১ রানে ক্যাচ উঠিয়ে।
৬৭ বল খেলা সাকিবের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও একটি ছয়। তার বিদায়ে আনুষ্ঠানিক লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটলে একই ওভারে খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে লেজ ছেঁটে দেন আলজারি জোসেফ। সাকিব অবশ্য আরও আগেই ফিরতে পারতেন। ক্যারিবীয় ফিল্ডার তার ক্যাচ নিতে পারেননি।
৮ ওভার বল করে ২১ রনে দুটি উইকেট নিয়েছেন রোচ। মেয়ার্স ৫ ওভার বল করেছেন। দুই মেডেনে ১০ রানে দুটি উইকেট নেন তিনিও। জেইডেন সিলস ৩৩ রানে নিয়েছেন তিনটি। সমান রান খরচ করে আলজারি জোসেফেরও শিকার তিনটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর প্রথম দিন শেষে:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে: ৩২.৫ ওভারে ১০৩ (তামিম ২৯, লিটন ১২, সাকিব ৫১; সিলস ৩/৩৩, জোসেফ ৩/৩৩, রোচ ২/২১, মেয়ার্স ২/১০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে: ৪৮ ওভার শেষে ৯৫/২ (৪২*, ক্যাম্পবেল ২৪, বনার ১২*; মোস্তাফিজ ১/১০, এবাদত ১/১৮)