অ্যান্টিগায় সুযোগ হাতছাড়া করে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ। স্পষ্ট করে দুবার এনক্রুমাহ বনারকে জীবন দিয়েছে সফরকারী দল। নিজের আর্ম বলে ক্যারিবীয় ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের সাফল্য বলতে ওই একটি উইকেট-ই। বিনিময়ে যোগ হয়েছে ৬৪ রান।
তবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ১০৩ রানের জবাবে লিড বাড়িয়ে নিচ্ছে স্বাগতিকরা। টেস্ট মেজাজে খেলে ঢিমেতালে এগুচ্ছে স্বাগতিকদের ইনিংস। লাঞ্চ বিরতির আগে ৭৯ ওভারে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৫৯ রান। ২৬তম ফিফটি তুলে ব্যাট করছেন অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (৭৫) ও জার্মেইন ব্ল্যাকউড (৯)। ক্যারিবীয়রা ৫৬ রানে এগিয়ে।
প্রথম দিন টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ১৬ রানে হারায় ৩ উইকেট। ক্যারিবীয় বোলিং তোপে ৪৫ রান জমা না হতে ফেরেন ৬ ব্যাটারও। তাতে সর্বশেষ সফরের সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পড়ারও শঙ্কা জেগেছিল। পরিস্থিতি বুঝে সাকিব তখন আগ্রাসী ব্যাটিংকেই আদর্শ মনে করে খেলেছেন। বিদায় নেওয়ার আগে ৬৭ বলে খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস। তাতে ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল অবশ্য। তার ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত ৩২.৫ ওভারে ১০৩ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ইনিংসে ৬ ব্যাটার ফিরেছেন শূন্য রানে। টানা দ্বিতীয় টেস্টে এমন ঘটলো। তাতে টেস্টে একাধিকবার ৬ ব্যাটারের শূন্য রানে ফেরার অনন্য নজির গড়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে ৭বার এমন ঘটনা ঘটলেও শুধু বাংলাদেশের বেলাতেই তা ঘটেছে ৩বার।
জবাবে ২ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাগ্যকে সঙ্গী করেই দিন শুরু করে। গতকাল বাংলাদেশের ফিল্ডিং ব্যর্থতায় জীবন পাওয়া ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ইনিংস মেরামতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এদিনও। তবে তার ইনিংস দীর্ঘায়িত করার পেছনে বাংলাদেশের ফিল্ডিং ব্যর্থতাই বেশি। প্রথম দিন মুমিনুলের ক্যাচ মিসের পর এদিন ৬৮তম ওভারে মিরাজের বলে আবারও ক্যাচ উঠেছিল ব্র্যাথওয়েটের। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড শর্টলেগে থাকা ফিল্ডার তা হাতে জমাতে পারেননি!
তবে দ্বিতীয় দিনের বোলিংয়ে এবাদত, খালেদ, মোস্তাফিজরা ক্যারিবীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। তাতে আসে কিছু সুযোগও। এবাদতের ৫৩ ওভারের শেষ বলটি এজ হয়ে গ্লাভসে জমা পড়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ জোরালো আবেদনই করেনি। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, বল ব্যাটের কানায় লেগেছিল। রিভিউ নিলে সাফল্য পেতে পারতো সফরকারীরা।
সুযোগ আসে খালেদের ৫৮তম ওভারেও। বল বনারের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে গেলেও ফিল্ডাররা অলস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তাতে সুযোগ হাতছাড়ার নজির দেখা গেলো এদিনও। যে কারণে, এই সেশনের প্রায় ঘণ্টাখানেক সাফল্যহীন থাকে সফরকারীরা।
তবে সাকিবের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে আর শেষ রক্ষা হয়নি বনারের। বাংলাদেশ অধিনায়কের আর্ম বলে ধোঁকা খান পুরোপুরি। লাইন বুঝতে পারেননি। পিছিয়ে খেলতে গেলে বল ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। ৯৬ বল খেলা এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন ৩৩ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ব্র্যাথওয়েট-বনারের ৬২ রানের জুটিও।
ক্যারিবীয় অধিনায়ক অবশ্য ব্ল্যাকউডকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তার পর। টেস্ট মেজাজে খেলে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ২৩৯ বল খেলেছেন। ব্ল্যাকউড খেলেছেন ৪৩টি।