কোনও উইকেট না হারিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনেও চলছিল তাদের দাপট। তবে গলার কাঁটা হয়ে থাকা দুই ওপেনার ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেলকে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। এরপর ওয়ান ডাউনে নামা রেমন রিফারের পর এনক্রুমা বনারকেও ছেঁটে ফেলেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে পথে ফিরেছে বাংলাদেশ।
শনিবার সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৩৪ রানে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নেমেছে ক্যারিবিয়ানরা। স্কোর ৩৯ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩২ রান।
প্রথম দিন মোটেও সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। গোটা দিন নিয়ন্ত্রণে ছিল ক্যারিবিয়ানদের। প্রথমে বোলিংয়ের পর শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। ব্যাকফুটে থাকা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিনে ভালো শুরু প্রয়োজন ছিল। যদিও দুই ওপেনার ক্যাম্পবেল ও ব্র্যাথওয়েট মিলে অস্বস্তি বাড়িয়েই যাচ্ছিলেন। অবশেষে বাংলাদেশ ক্যাম্পে স্বস্তি ফেরান শরিফুল ইসলাম।
মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়ে এই বাঁহাতি ব্যাটার এনে দেন প্রথম উইকেট। তার বলে ফিরে যান ক্যাম্পবেল। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়ার আগে এই ওপেনার করেন ৪৫ রান। ৭৯ বলের ইনিংসটি সাজান ৬ বাউন্ডারিতে।
যেখানে ১০০ রানে বাংলাদেশ পায় প্রথম উইকেট, সেখানে পরের ৩ উইকেট পেয়েছে মাত্র ১ রানে! মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ব্র্যাথওয়েট ফেরার পরই খালেদ আহমেদের জোড়া আঘাত। একই ওভারে এই পেসার আউট করেন রিফার ও বনারকে। যে উইকেট উৎসবের শুরুটা হয়েছিল ব্র্যাথওয়েটকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর রিফারকে সঙ্গে নিয়ে স্কোর বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন ব্র্যাথওয়েট। এর মধ্যে হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। তবে মাইলফলক স্পর্শ করার পরপরই ফিরে যান। মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৫১ রানে আউট ব্র্যাথওয়েট। ১০৭ বলের ইনিংসটিতে মারের ৭ বাউন্ডারি।
তার বিদায়ের পর ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের টপ অর্ডার। খালেদের তোপে সব এলোমেলো। এই পেসার ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেন ২২ রান করা রিফারকে। ষষ্ঠ বলে আবারও উইকেট। ওই একইভাবে (বোল্ড) বনারকে সাজঘরে ফেরার রানের খাতা খুলতে না দিয়ে। তাতে ১৩২ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।