এনামুল-মুনিমদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ সুজন

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে আফ্রিকার দেশটি। ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের কারণেই মূলত সিরিজ হারতে হয়েছে লাল-সুবজ জার্সিধারীদের। সিনিয়র বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা পারফর্মারদের নিয়েই জিম্বাবুয়ে সিরিজের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করা হয়েছিল। এনামুল হক-মুনিম শাহরিয়াররা ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে সেটি পারছেন না। তাদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

এনামুল প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড রান করে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। ১৫ ম্যাচে ৮১.২৮ গড়ে করেন ১ হাজার ১৩৮ রান। জাতীয় দলে ফিরে একটি টেস্ট ও ৬ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন এনামুল। যার সবকটিই ব্যর্থ এই ব্যাটার। ৬ টি-টোয়েন্টিতে তার রান মোটে ৮৫!

এদিকে সর্বেশেষ বিপিএলে মুনিমের ভয়ডরহীন ক্রিকেট প্রশংসা কুড়ায়। ক্রিস গেইলকে একপাশে রেখে বিপিএলে দারুণ খেলেছেন মুনিম। তাতেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি বছর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়ে যায় তার। কিন্তু এখন অব্দি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই ব্যাটার। ৫ ম্যাচ খেলে তার রান ৩৪, সর্বোচ্চ ১৭।

হারারেতে বুধবার ওয়ানডে দলের অনুশীলন হয়েছে। অনুশীলন শেষে টিম ডিরেক্টর সুজন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানেই ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি, ‘যাদের নেওয়া হয়েছে, তারা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা ক্রিকেটার। সবাই পারফর্ম করেই এখানে এসেছে। মুনিম শাহরিয়ারের যদি কথা বলেন, পারভেজের কথা বলেন, দুজনই লোকাল টি-টোয়েন্টিতে পারফর্ম করা ক্রিকেটার। আপনি সেরা পারফর্মারদেরই তো নিয়ে এসেছেন। তারা যদি পারফর্ম না করে তাহলে কী আর করার থাকে!’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ হার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সুজন, ‘আমি খুব হতাশ। আমরা বারবার বলি নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে। কিন্তু আমরা কবে সে শিক্ষাটা নেবো। আমি পুরোপুরি ক্রিকেটারদের দোষ দেবো। তাদের প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভুল ছিল।’

সুজন আরও বলেছেন,‘এখানে আমাদের জেতাটাই স্বাভাবিক ছিল। হারটা ছিল অস্বাভাবিক। আমরা জানি যে ওভারে আমাদের ১০-১২ করে লাগবে। কেউ দেখলাম যে একটা ছয় মারার চেষ্টা করছে। সবাই ২-১ করে নিচ্ছে। আমি একটা স্কোর করে নিজের জায়গাটা ঠিক রাখলাম, এটা কী ওই ধরনের কিছু কিনা, আমি ঠিক জানি না। আপনি যদি ১০০ স্ট্রাইক রেটে খেলেন, তাহলে এখানে রান তাড়া করে জিততে পারবেন না। একজন-দুজনকে তো শট খেলতে হবে। ওদের দুজন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট দেখুন। এখানে ভিন্ন কিছু করার প্রয়োজন ছিল না। শর্ট বলকে যদি পুল করে ছক্কা মারার আত্মবিশ্বাস না থাকে, তাহলে তো মুশকিল।’

এমন ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের উপায়ও জানেন না সুজন। পুরো দায়টা তিনি ক্রিকেটারদেরই দিচ্ছেন, ‘করণীয়টা কী এটা ক্রিকেটাররাই বলতে পারবে। এমন না যে ছেলেরা এখন দলে আসছে আর যাচ্ছে। তারা একটা সময়ের জন্য সুযোগ পাচ্ছে। তারা জানে যে তাদের জায়গা নিয়ে এত কাড়াকাড়ি নেই। তাদের ঠিকঠাক সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় তো মন খুলে খেলা উচিত। আমি ওই মন খুলে খেলাটা দেখতে পাচ্ছি না।’