তৃতীয় ওয়ানডেতে ৮ বলের মাঝে পড়ে যায় ৩ উইকেট। প্রাথমিক ধাক্কার পর এনামুল হক বিজয় আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও ৭৬ রানের ইনিংসটা সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারলেন না। তার ফেরার পর মাহমুদউল্লাহও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মন্থরগতিতে খেলে বল নষ্ট করেছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২১৩ রান। ক্রিজে আছেন আফিফ হোসেন (৫১) ও তাইজুল ইসলাম (২)।
প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে যাওয়ার পর আজ দশম দল হিসেবে ৪০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় দেখে শুনে ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেছিলেন। টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করা তামিম স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্ব কাঁধে নেন শুরু থেকেই। বিজয় অবশ্য দেখে শুনে সময় নিয়ে হাত খুলেছেন। ছন্দপতন ঘটে নবম ওভারে। এনগারাভার বলে রান নেওয়ার ইঙ্গিতটা দেন বিজয়। তামিমও সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন তাতে। কিন্তু বলটা ফিল্ডারের কাছে পড়ায় শেষরক্ষা হয়নি অধিনায়কের। বিজয়ের ভুল কলে ৩০ বলে ১৯ রান করা তামিম প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই এনগারাভা স্টাম্প ভেঙেছেন।
তার পরেই মোমেন্টাম বদলে যায় সফরকারীদের। দশম ওভারে চোখের পলকে জোড়া আঘাতে আরও দুই উইকেট তুলে নেন ব্র্যাড ইভান্স। ৯.১ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তকে (০) ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তালুবন্দি করিয়েছেন এই পেসার। চতুর্থ বলে বিপদ বাড়িয়ে দেন মুশফিক নিজেই। শর্টার লেংথের বলে অযথা আপার কাট করতে গিয়ে দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন এনগারাভার।
এরপর অবশ্য পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলতে থাকেন বিজয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটিও। তার লড়াইয়ে পাশে থাকেন মাহমুদউল্লাহও। দুজনে মিলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ২৪ ওভার পর্যন্ত। লড়াইটা স্থায়ী ছিল এই পর্যন্তই। বিজয় আগ্রাসী ইনিংসটাকে শতকে রূপ দিতে পারেননি। লুক জঙ্গোয়ের বলে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন ৭৬ রানে। তার ৭১ বলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৪টি ছয়।
বিজয় ফিরলেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে প্রান্ত আগলে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নতুন করে আফিফকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু তুলনায় মাহমুদউল্লাহ ছিলেন খুবই ধীরস্থির। শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে মাত্র ৩ চারে ৩৯ রান করা এই অলরাউন্ডার বিদায় নেন বোল্ড হয়ে। এনগারাভার অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।
আফিফ তারপর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে শেষটা গোছানোর চেষ্টা করেন। জুটিও গড়েন ৩৩ রানের। সম্ভাবনাময় জুটিটা ভেঙে যায় মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজার গুড লেংথের বল মিরাজ এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন। বল প্যাডে লাগলে আবেদন করেন রাজা। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দিলে ২৪ বলে ১৪ রানে শেষ হয় মিরাজের ইনিংস। ততক্ষণে দারুণ ব্যাটিংয়ে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন আফিফ।
শুরুতে টস ভাগ্যও হাসেনি বাংলাদেশের। বরাবরের মতো টস জিতে বোলিং নিয়েছে স্বাগতিক দল। জিম্বাবুয়ে দলে আজ অধিনায়কত্ব করছেন সিকান্দার রাজা। দলের হয়ে টস করেছেন। রেজিস চাকাভা ছিটকে যাওয়ায় আজ কিপিং করবেন ক্লাইভ মাদান্দে। চিভাঙ্গাও বাদ পড়েছেন, ফিরেছেন এনগারাভা।
বাংলাদেশ একাদশেও দুটি পরিবর্তন হয়েছে আজ। নেই পেসার শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। তাদের জায়গায় যুক্ত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও এবাদত।
হঠাৎ করে ওয়ানডে সিরিজের শেষভাগের জন্য উড়িয়ে আনা পেসার এবাদত হোসেনের অভিষেক এই ম্যাচ দিয়েই।