এশিয়া কাপের লড়াই। তবে এই মহাদেশ পেরিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই লাগছে উত্তাপের আঁচ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের লড়াই বলে কথা। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে চরম আকাঙ্ক্ষিত এক দ্বৈরথ। অনেক অপেক্ষার পর আজ (রবিবার) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ দুটি।
বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হতে যাওয়া মহারণ দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস ১ চ্যানেলের পর্দায়। মাঠে বসে কিংবা টিভির সামনে বসে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই উপভোগের আগে জেনে নিন দল দুটির মুখোমুখি অবস্থান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের দ্বৈরথের আগে তাদের রেকর্ডেই বা কী বলছে।
দলের অবস্থান কী
এবারের এশিয়া কাপের আয়োজক শ্রীলঙ্কা হলেও খেলা হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। মরুর বুকে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে ভারত-পাকিস্তান। প্রতিযোগিতাটি ভারত জিতেছে সাতবার, বিপরীতে পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠত্ব দুইবার। রোহিত শর্মারা আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নামতে যাচ্ছে এশিয়া কাপে। অন্যদিকে ২০২২ সালে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে নামছে পাকিস্তান। গত এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি ৩ উইকেটে হেরেছিল বাবর আজমরা।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নয়বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। যেখানে ৭-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। এই সংস্করণে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ম্যাচটি ভারত জিতেছিল বোল আউটে। দল দুটির সবশেষ দেখা হয়েছিল গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। অক্টোবরের সেই লড়াইয়ে বাবররা উড়িয়ে দিয়েছিল বিরাট কোহলিদের। জিতেছিল ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
এশিয়া কাপের হিসাব করলে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ সংখ্যা ১৪টি। এখানেও ভারতের আধিপত্য। মেন ইন ব্লু এগিয়ে ৮-৫ ব্যবধানে।
পারফরম্যান্স কী বলছে
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান বিরাট কোহলির। সাবেক ভারতীয় ব্যাটার ৭৭.৭৫ গড়ে করেছেন ৩১১ রান। সবশেষ সাক্ষাতে তিনি হাফসেঞ্চুরিও পেয়েছেন। বোলিংয়ে অবশ্য পাকিস্তান এগিয়ে। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি উইকেট উমর গুলের। সাবেক এই পেসার নিয়েছেন ১১ উইকেট, যেখানে আছে এক ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
সর্বশেষ ম্যাচ
ভারত-পাকিস্তান সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এই দুবাইতেই ম্যাচটি হয়েছিল ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর। সেই লড়াইয়ে পাকিস্তান টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। শাহীন শাহ আফ্রিদির তোপে শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় কোহলিরা। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ১৫১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে তারা। মনে হয়েছিল, এই স্কোরেও জমজমাট একটা ম্যাচ দেখা যাবে। কিন্তু বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে এমন ঝড় তুললেন যে কোনও উইকেটই পড়লো না। পাকিস্তান জিতে যায় ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। ওই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় শাহীন আফ্রিদিকে অবশ্য এবারের এশিয়া কাপে পাচ্ছে না পাকিস্তান।