ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই উত্তাপের আঁচ; যা পুরো ক্রিকেটে বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ে। এমনিতে রাজনৈতিক বৈরিতায় দ্বি-পাক্ষিক কোনও সিরিজ দুই দল খেলতে পারে না। ফলে আইসিসি কিংবা এসিসির ইভেন্টে তাদের দ্বৈরথ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে চরম আকাঙ্ক্ষিত। ইতোমধ্যে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে দুই দল মুখোমুখিও হয়েছে। কিন্তু শেষ হাসিটি ছিল ভারতের। সুপার ফোরে সেই দলটির বিপক্ষেই মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান আজ প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে। অন্যদিকে ভারতের সামনে সুযোগ ফাইনালের পথে কিছুটা এগিয়ে থাকার।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে রবিবার রাত ৮টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে নাগরিক টেলিভিশন ও গাজী টেলিভিশন।
রাজনৈতিক উত্তেজনায় ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দল দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে মাত্র ২ বার। আর ৮ বার লড়াই হয়েছে বিশ্বকাপ-এশিয়া কাপের মঞ্চে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও দশবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। যেখানে ৮-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারতীয় দল। এই সংস্করণে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ আবার ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ভারত ম্যাচটি জিতেছিল বোল আউটে।
এশিয়া কাপের হিসেব করলে (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে মিলিয়ে) ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ সংখ্যা ১৫টি। এখানেও ভারতেরই আধিপত্য। তারা এগিয়ে ৯-৫ ব্যবধানে।
তবে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আগেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ দুই শিবিরে। বড় হচ্ছে চোটের তালিকা। ভারতীয় দল থেকে ছিটকে গেছেন রবীন্দ্র জাদেজা। হাঁটুর ইনজুরিতে শুধু এশিয়া কাপ নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায়। তার পরিবর্তে দলে দেখা যেতে অক্ষর প্যাটেলকে। এছাড়া পেসার আবেশ খানও কিছুটা অসুস্থ। একই দশা পাকিস্তানের। শাহনওয়াজ দাহানি ছিটকে গেছেন সাইড স্ট্রেইনে। তার পরিবর্তে দেখা যেতে পারে হাসান আলী অথবা মোহাম্মদ হাসনাইনকে।
তার পরেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে জিততে মরিয়া পাকিস্তান। উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেছেন, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে ফাইনালে উঠতে চাই। আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখতে চান সমর্থকরা। মাঠে এবার সেটা করে দেখাতে সকলে তৈরি। রবিবার জয় ছিনিয়ে নিতে আমাদের চেষ্টার কোনও কমতি থাকবে না।’
ভারতের কোচ রাহুল দ্রাবিড় আবার বাকি ম্যাচগুলোকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। বলেছেন, ‘এই এশিয়া কাপে আমাদের আরও চারটি ম্যাচ বাকি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও ভীষণ সহায়ক হবে।’