কিউরেটর পরিবর্তন, পাল্টাবে কী উইকেট?

এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর উইকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ এ কে এম মাহমুদ ঈমন। একদিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিউরেটর প্রবীণ হিনগানিকরকে সিলেটে উড়িয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ভেন্যুর মূল মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচ। এখন প্রশ্ন উঠেছে- চট্টগ্রামের কিউরেটরকে দায়িত্ব দেওয়ায় দ্রুত উইকেটের আচরণেও কী পরিবর্তন আনা সম্ভব?

সিলেটের দুই নম্বর গ্রাউন্ড যেন স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। এতদিন এই গ্রাউন্ডেই ম্যাচ হয়েছে। হুট হাট টার্নের পাশাপাশি এখানে বল উঁচু-নিচুও হয়ে থাকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৭০ রান করতে পারে বাংলাদেশ। অথচ এই মাঠেই নিজেদের প্রস্তুত করেছে স্বাগতিক দল। চেনা মাঠে বাংলাদেশের এভাবে বিধ্বস্ত হওয়াটা বড্ড বেমানান। টি-টোয়েন্টিতে এমন উইকেটের সমালোচনা করেছেন দুই দলের ক্রিকেটাররাই।

সিলেট স্টেডিয়াম- ছবি রবিউল ইসলাম।বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে সমালোচনা করেছেন সিদ্রা আমীন, ‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জন্য এটা আদর্শ উইকেট নয়। খুব টার্ন হচ্ছিল। যে বোলার ঝুলিয়ে বল করছিল টার্ন পাচ্ছিল, নিচুও হচ্ছিল। এখানে ইম্প্রোভাইজেশন করা কঠিন। খুব বেশি শট খেলা কঠিন।’

বাংলাদেশেনর কোচ মাহমুদ ইমনতো বিস্ফোরক মন্তব্যই করেছেন তার পর, ‘এটা (সিলেট) যেহেতু আমার জেলা। স্থানীয় ক্রিকেটেও এরকম উইকেট দেখিনি। মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য সব মিলিয়ে আমাদের মনোবল ও প্রস্তুতির জন্য এটা পিছিয়ে দিতে যথেষ্ট। আমাদের ম্যানেজার আম্পায়ার্স রিপোর্টে এটা নিয়ে রিপোর্ট করেছে। উইকেট নিয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু এসিসির টুর্নামেন্ট, আমরা রিপোর্ট তাদের কাছেই দিয়েছি।’

অবশ্য সিলেটের যে মাঠে এতদিন টুর্নামেন্ট গড়িয়েছে, সেখানে আজকেই খেলা শেষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে মূল মাঠে টুর্নামেন্টের বাকি অংশ অনুষ্ঠিত হবে। এখন এই ভেন্যুতে যেন উইকেটের আচরণ ঠিকঠাক থাকে; সেটি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের কিউরেটর প্রবীণ গিনগানিকরকে। 

সিলেটের মূল মাঠের উইকেট ইতোমধ্যে তৈরিও হয়ে গেছে। নতুন করে খুব বেশি কাজ করার কিছু নেই। তার পরও প্রবীণ হিনগানিকরকে মাঠে বেশ সরব ভূমিকাতে দেখা গেলো। অবশ্য এখানে আগে থেকে ছিলেন ভারতের আরেক কিউরেটর সঞ্জীব আগারওয়াল। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে প্রবীন দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেটে সব মিলিয়ে ৩৮টি উইকেট। বড় টুর্নামেন্টে এতগুলো উইকেট এক সঙ্গে পরিচর্যা করা বেশ কঠিন। এই কারণেই বড় ইভেন্টে সবাইকে ডাকা হয়। 

শুধু সিলেট নয়, মিরপুরের উইকেট নিয়েও সমালোচনা কম হয় না। তারপরও স্লো ও টার্নিং উইকেটে খেলতে খেলতে ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস তলানীতে নেমে যাচ্ছে। কুড়ি ওভারের ধুমধারাক্কা ক্রিকেটে স্পোর্টিং উইকেট প্রত্যাশা করা হলেও আদতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে থাকে বিস্তর ফারাক। নারী এশিয়া কাপেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। চট্টগ্রামের কিউরেটর প্রবীণ কী পারবেন অল্প সময়ে উইকেটের আচরণ পাল্টে ফেলতে? সেটি পারলে আদতে লাভ বাংলাদেশেরই!