অস্ট্রেলিয়া জিতলেও ছেড়ে কথা বলেনি আয়ারল্যান্ড

‘জায়ান্ট কিলার’ কথাটা যে এমনি এমনি বলা হচ্ছে না, সেটি আবারও প্রমাণ করতে চেয়েছিল আয়ারল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ৪২ রানে জিতলেও আইরিশরা ছেড়ে কথা বলেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নজির রেখেছে। 

১৮০ রানের লক্ষ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ১২ বলে আইরিশদের ৫ উইকেট তুলে নিয়েই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ২৫ রানে পড়েছে ৫ উইকেট। ঠিক সেই অবস্থান থেকে আয়ারল্যান্ড অলআউট হয়েছে ১৩৭ রানে। ভাবা যায়! লরকান টাকার একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যাওয়াতেই এটা সম্ভব হয়েছে। ৪৮ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। 

লরকান টাকারকে একটা পর্যায় পর্যন্ত গ্যারেথ ডেলানি সঙ্গ দেওয়ায় ৬৮ রানে পড়েছে ষষ্ঠ উইকেট। ডেলানি ১৪ রানে ফিরেছেন। তারপর মার্ক অ্যাডেয়ারও লরকানের লড়াইয়ে সঙ্গ দিয়েছেন। কিন্তু বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ফিওন হ্যান্ড, ব্যারি ম্যাকার্থি ও জশ লিটলদেরও হয়েছে তাই। তাতে ১৮.১ ওভারে ১৩৭ রানেই অলআউট হয়েছে আয়ারল্যান্ড।

অজি বোলারদের মধ্যে ১৪ রানে দুটি নিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। একই ওভারে জোড়া আঘাত হানেন তিনি। ১৯ রানে অ্যাডাম জাম্পা নিয়েছেন দুটি। ২৮ রান খরচায় প্যাট কামিন্স ও ৪৩ রানে সমান দুটি উইকেট নেন মিচেল স্টার্কও।

জয়ের পর গ্রুপ ওয়ানে ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। এক ম্যাচ কম খেলা নিউজিল্যান্ড ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ইংল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড অবশ্য ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেয়ে চারে অবস্থান করছে। তার পরে থাকা শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। 

তার আগে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের জ্বলে ওঠা ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৭৯ রানের বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিক দল।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ৮ রানে হারিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট। ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকা এই ওপেনার মাত্র ৩ রান করেছেন। তবে ফিঞ্চ রানে ফিরেছেন ঠিকই। প্রথম উইকেটের পর মিচেল মার্শ-ফিঞ্চ জুটি ভরসা দেয় স্বাগতিকদের। কিন্তু মার্শকে ২৮ রানে বিদায় দিয়ে জুটি ভাঙেন ম্যাকার্থি।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল হাত খুলেছিলেন। কিন্তু ৯ বলে ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর মূলত ফিঞ্চ-স্টয়নিসের বিস্ফোরক ব্যাটিং বড় স্কোরের মঞ্চ গড়েছে। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে ৩৬ বলে যোগ হয়েছে ৭০ রান। দলীয় ১৫৪ রানে ফিঞ্চের বিদায়ে ভাঙে জুটি। যাওয়ার আগে অজি অধিনায়ক ৪৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচসেরাও তিনি। তারপর বিদায় নেন স্টয়নিসও। ২৫ বলে অজি অলরাউন্ডার ৩৫ রান করেন ৩ চার ও ১ ছক্কায়। শেষ দিকে টিম ডেভিড ১০ বলে ১৫ ও ম্যাথু ওয়েড ৩ বলে ৭ রানে কার্যকর ভূমিকা রাখলে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে ১৭৯ রানের সংগ্রহ পেয়েছে।

আইরিশদের হয়ে ২৯ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ব্যারি ম্যাকার্থি। ২১ রানে দুটি নিয়েছেন জশ লিটল।