বাংলাদেশের সেমিফাইনালের পথে জটিল অঙ্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। জটিল সমীকরণে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনও আছে বাংলাদেশের! তবে সেই সম্ভবনা ধোপে টিকবে পাকিস্তানকে হারতে পারলেই। ভারতের বিপক্ষে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হারলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ভুল করতে চায় না বাংলাদেশ। ফলে জটিল অঙ্ক মাথায় নিয়ে পাকিস্তান বধে মাঠে নামছে সাকিব আল হাসানের দল।

শুধু বাংলাদেশেরই নয়, প্রায় একই সমীকরণ পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত হারলেই কেবল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে বড় ব্যবধানে জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলার টিকিট পাবে। রবিবার অ্যাডিলেড ওভালে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় ম্যাচটি শুরু হবে। সরাসরি দেখা যাবে টি স্পোর্টস ও গাজী টেলিভিশনে।

গ্রুপ ২-এর শেষ তিনটি ম্যাচ থেকে ঠিক হবে এই কোন দুটি দল যাবে সেমিফাইনালে। এই গ্রুপের ৫ দলেরই সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রবিবার দুপুর ২টায় মেলবোর্নে ভারতের মুখোমুখি জিম্বাবুয়ে, আর অ্যাডিলেড ওভালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের আগেই নির্ধারিত হয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা-নেদারল্যান্ডস লড়াইয়ের ভাগ্য। সকাল ৬টার এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে গেলে সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করবে প্রোটিয়ারা। তবে নেদারল্যান্ডস হেরে গেলে শঙ্কায় পড়ে যাবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাওয়া!

বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলতে দুই রকম অঙ্ক। নিজেদের পাকিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসকে জিততে হবে। তাহলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। তখন আবার ভারত ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাওয়ার আরও একটা পথ খোলা আছে। পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতকেও বড় ব্যবধানে হারতে হবে। তাহলেই কেবল নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাওয়া সম্ভব। সব মিলিয়ে মিরাকল কিছু হলেই কেবল বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়া সম্ভব।

চলতি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাসকিন আহমেদ অবশ্য মিরাকল কিছুর আশা করছেন, ‘এই গ্রুপের বেশিরভাগ ম্যাচ উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে। তো এখনও যেকোনও কিছু হতে পারে। মিরাকল হলেও হয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ক্যালকুলেশন কী হবে, সেটি পরে দেখা যাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি জেতা।’

পাকিস্তান পথ হারালেও তাদের বিপক্ষে জয় মোটেও সহজ হবে না। অন্তত অতীত পরিসংখ্যান তাই বলে। এই ফরম্যাটে ১৭বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। যেখানে পাকিস্তান জিতেছে ১৫টিতে। আর বাংলাদেশ জিতেছে ২টিতে।

শেষ ম্যাচটিতে অবশ্য ভালো লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পাকিস্তানকে হারাতে পারবো। কিন্তু সেমিফাইনালে যাওয়া আমাদের হাতে নেই। আমার মনে হয়, পাকিস্তান খুব ভালো দল। নিউজিল্যান্ডে (ত্রিদেশীয় সিরিজ) তাদের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই আমাদের সুযোগ ছিল। তারা জানে আমাদের শক্তির জায়গা, আমরাও তাদেরটা জানি। আগামীকাল (রবিবার) একটা ভালো লড়াই হবে।’

এদিকে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা কাগজে-কলমে এখনও টিকে আছে। প্রায় অসম্ভব সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে পাকিস্তান। দুই দলই চারটি করে ম্যাচ খেলে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েছে। তবে রানরেটে এগিয়ে আছে বাবর আজমরা।

তবে নিজেরা মাঠে নামার আগেই ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানেরও দক্ষিণ আফ্রিকার হার প্রত্যাশা করতে হবে। সেটি না হলেও তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত-জিম্বাবুয়ের ম্যাচের দিকে। ভারত হেরে গেলে, বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারালেই সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে যাবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের মতো অভিন্ন লক্ষ্য পাকিস্তানের। সমীকরণের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের ম্যাচেই নজর। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ব্যাটার শান মাসুদ বলেছেন, ‘দলের ফোকাস এখন বাংলাদেশ ম্যাচের দিকে। ২ পয়েন্ট তুলে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। শুধু এই বিষয়টা আমাদের হাতে আছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচের শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আশাবাদী।’