১২ বছর পর টেস্ট দলে উনাদকাট

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাদকাট হেইচই ফেলে দিয়েছিলেন। জোরে বল করার পাশাপাশি দুদিকে সুইং করাতে পারেন। সিদ্ধহস্ত স্লোয়ার কাটারেও। এমন বোলারকে নিয়ে আলোচনা হওয়ারই কথা। আলোড়ন তুলেই ২০১০ সালে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার। কিন্তু অভিষেক টেস্টটা রাঙাতে পারেননি। ১৫৬ বল করে উইকেট শূন্য ছিলেন! তার পর পাক্কা ১২ বছর আর টেস্ট দলে জায়গাই হয়নি। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে জাকির হাসানকে ফিরিয়ে টেস্ট উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন ভারতের এই পেসার।

এক যুগ পর টেস্ট খেলতে নেমে ৩১ বছর বয়সী পেসার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখা পেয়েছেন। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টা অনায়াসেই পার করেছিলেন দুই ওপেনার জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ১৫তম ওভারে উনাদকাটের পঞ্চম বলটি কাট করতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনেন জাকির। অতিরিক্ত বাউন্সের কারণে ঠিক মতো খেলতে পারেননি। বলটি গ্লাভস চলে যায় চতুর্থ স্লিপে। উনাদকাটের বলে ৩৯ রানের জুটি ভাঙতেই ম্যাচে ফেরে ভারত। ৪ বলের ব্যবধানে নাজমুল হোসেন শান্তকেও সাজঘরের পথ দেখান অশ্বিন।  

দেশের হয়ে সাতটি ওয়ানডে ও ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলা উনাদকাট সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০১৮ সালে। টেস্টতো আরও আগে। ২০১০ সালে মাহেন্দ্র সিং ধোনীর হাত ধরে ভারতের টেস্ট দলে অভিষেক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা পোশাকে তার যাত্রা থেমে যায় সেঞ্চুরিয়নেই। ইনিংস ও ২৫ রানে হেরে যাওয়া ম‌্যাচে উনাদকাট ছিলেন বড্ড বিবর্ণ। ১০১ রান খরচ করে একটি উইকেটও পাননি তিনি।

দল থেকে বাদ পড়ার পর একদম আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। আইপিএল ও ভারতের অন‌্যান‌্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পারফর্ম করে অবশেষে ১২ বছর পর তার অপেক্ষা ফুরালো। তাও সেটা সম্ভব হয়েছে পেসার মোহাম্মদ সামির ইনজুরিতে। তার জায়গাতেই উনাদকাটের দলে ফেরা। চট্টগ্রাম টেস্টে তাকে নিয়ে নামার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতায় ম‌্যাচের আগে পৌঁছাতে পারেননি। অবশেষে ঢাকায় রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবের বদলে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাঁহাতি এই পেসারকে।

ম‌্যাচ হিসেবে ১১৮ ম‌্যাচ পর খেলতে নেমেছেন। যা ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম বিরতি দিয়ে টেস্ট খেলার নজির। ইংল‌্যান্ডের গ‌্যারেথ বেটি ২০০৫ সালের ৫ জুনের পর ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর পরের টেস্টে সুযোগ পেয়েছিলেন। এ সময়ে বিরতি ছিল ১১ বছর ১৩৭ দিন। ম‌্যাচ হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ ১৪২ ম‌্যাচ মিস করেছিলেন।

সম্প্রতি বিজয় হাজারে ট্রফিতে সৌরাষ্ট্রকে শিরোপা জেতানোর পথে ১০ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন উনাদকাট। এছাড়া লাল বলে গত অক্টোবরে ইরানি ট্রফিতে শেষ ম‌্যাচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ৯৬ প্রথম শ্রেণির ম্যাচেও তার উইকেট সংখ্যা ৩৫৩টি।