আরও একটি লো স্কোরিং ম্যাচ মঞ্চায়িত হলো মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে। এমনিতেই মিরপুরের উইকেট স্লো, তার মধ্যে আবহাওয়ার কারণে উইকেট পর্যাপ্ত রোদ পায়নি। সবমিলিয়ে তাই প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনের ম্যাচটিও হয়েছে ম্যাড়ম্যাড়ে। আল-আমিন হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে খুলনা টাইগার্সের ইনিংস থামে ১১৩ রানে। জবাবে খেলতে নেমে নাসির হোসেনের দায়িত্বশীল ইনিংসে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জেতে ঢাকা ডমিনেটরস।
ঘন কুয়াশার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধাঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। রাতের ম্যাচের মতো দিনের ম্যাচের পুরোটাই গড়িয়েছে ফ্লাডলাইটের আলোতে। জমে যাওয়া ঠাণ্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশা—সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ ছিল না। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকার দেওয়া ১১৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ধীরস্থির ভাবেই শুরু করেছিল ঢাকা। খুলনার বোলার ভ্যান মিকেরেনের বলে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন আহমেদ শেহজাদ (৪)। এরপর দিলশান মুনাবীরা এবং সৌম্য মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন।
সৌম্যর আউটকে ঘিরে মিরপুরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ষষ্ঠ ওভারে নাসুমের বলে এলবিডব্লিউর আবেদন উঠে। আম্পায়ার আউট দিলে সৌম্য সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন। কিন্তু ডিআরএস না থাকায় বল ব্যাটে নাকি প্যাডে লেগেছে, এটা স্পষ্ট করে বোঝার উপায় নেই। ফলে বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে অনেকটা অনুমানের ভিত্তিতেই থার্ড আম্পায়ার ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে আউট ভেসে উঠলে প্রতিবাদ করেন সৌম্য।
সেই প্রতিবাদে আবারও থার্ড আম্পায়ারের কোর্টে ‘বল’ পাঠান ফিল্ড আম্পায়ার। আরও কিছুক্ষণ দেখে সৌম্যকে নটআউট ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে সরব ছিলেন খুলনা টাইগার্সের তামিম ইকবাল। বেশ কিছুক্ষণ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয় খুলনা। যদিও খুব বেশি কিছু করতে পারেননি সৌম্য। ৫ রানে জীবন পেয়ে সৌম্য শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে থেমেছেন। সৌম্যর আউটের পর ১৯ রানের মধ্যে ফিরে যান মুনাবীরা (২২) ও মোহাম্মদ মিঠুন (৮)। এরপর ওসমান গানির পর আরিফুল হককে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক নাসির হোসেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে নাসিরের ব্যাট থেকে। ৩৬ বলে ৪ চারে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন ঢাকার অধিনায়ক। ওসমান ঘানি ১৪ ও আরিফুল ৩ রানের ইনিংস খেলেছেন।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২২ রানে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ওয়াব রিয়াজ ও ভ্যান মিকেরেনে নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় খুলনা। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ২৮ রানে টপ অর্ডার তিন ব্যাটারকে হারিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। অনেকদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তামিম ১৫ বলে ৮ রান করেছেন। ইয়াসির আলীর ২৫ বলে ২৪, আজম খানের ১২ বলে ১৮, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৮ বলে ১৯, সাইফউদ্দিন ১১ বলে ১১ এবং ওয়াহাব রিয়াজের ৩ বলে ১০ রানের ইনিংসে কোনও রকমে ১১৩ রান করতে পারে খুলনা।
ঢাকার পেসার আল আমিন হোসেনের তোপেই ভেঙে পড়ে খুলনার ব্যাটিং অর্ডার। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন আল আমিন। এছাড়া নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ব্যাটিং-বোলিংয়ে অলরাউন্ডস পারফরম্যান্স করে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতেন নাসির।