বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। নানা সময়ে হাই-পারফরম্যান্স, এইচপি, জাতীয় দলের সঙ্গে রেখে শান্তকে তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তুমুল প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি, হতে পারেননি ধারাবাহিক। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শান্তকে নিয়ে হয় তীব্র সমালোচনা। শান্তও অবশ্য সেসব পাত্তা দেন না। কিন্তু মাঝে মধ্যে আপসেট হয়ে পড়েন, পরিবারের কথা ভেবে।
২০১৬ সালে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে পরের বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় হয় শান্তর। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৫৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলে ফেলেছেন এই তরুণ। তার ব্যাট থেকে মাঝে মধ্যে দুর্দান্ত কিছু ইনিংস এলেও বেশিরভাগ সময়ই থাকে নিষ্প্রভ! তবে যেদিন খেলেন, সেদিন প্রতিপক্ষ বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ফেলেন। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) মিরপুরে অনেকদিন পর শান্তর রূপ দেখা গেলো। ৬৬ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় ৮৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ম্যাচ সেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত নিজের কষ্টের কিছু কথা জানিয়ে গেছেন।
সামাজিক মাধ্যমের ট্রলগুলোকে নিজে উপেক্ষা করলেও পরিবারের জন্য সেগুলো উপেক্ষা করা বেশ কঠিন। শান্ত সেটাই জানালেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমার জন্য যতটা না কঠিন...তার থেকে বেশি কঠিন আমার পরিবারের জন্য। সত্যি বলতে, আমি যেভাবে বুঝি আমার পরিবারের সদস্যরা সেভাবে বোঝে না। তারা হার্ট হয়, তাদেরও কষ্ট লাগে, তারা কষ্ট পায়। তারাও বাইরে যায়। এই জিনিসটার জন্য আমি মাঝে মাঝে আপসেট হয়েছি। আমার কষ্ট লেগেছে।’
চলতি বিপিএলে মাশরাফির সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলছেন শান্ত। মাশরাফির নেতৃত্বে চলমান বিপিএল ভালোই কাটছে শান্তর। ৭ ম্যাচে ২৮১ রান করে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক শান্ত। মূলত মাশরাফির অনুপ্রেরণাতেই দারুণ ব্যাটিং হচ্ছে বলে জানালেন এই ব্যাটার, ‘মাশরাফি ভাই সব সময় অনুপ্রাণিত করে। বিপিএলে আমার প্রথম মৌসুমে উনি আমার অধিনায়ক ছিলেন। সব সময় অনুপ্রাণিত করে, অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেন। ’